‘১০ কোটির ঋণ শোধ নেই, তিনি প্রার্থী!’-মেজাজ হারালেন দিলীপ-জায়া, বিজেপি অফিসে তুলকালাম

বিধানসভা ভোটের টিকিট বণ্টন নিয়ে বিজেপির অন্দরে বিদ্রোহ এবার খোদ দিলীপ ঘোষের অন্দরমহলে! রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রের প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় সল্টলেকের দলীয় দপ্তরে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন দিলীপ-জায়া রিঙ্কু মজুমদার। প্রার্থীকে ‘ক্রিমিনাল’ বলে দাগিয়ে দিয়ে তাঁর সাফ কথা— “আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে এমন প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামব না।”

‘১০ কোটির ঋণ শোধ নেই, তিনি প্রার্থী!’

রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রে বিজেপি এবার টিকিট দিয়েছে পীযূষ কানোড়িয়াকে। আর এই নাম ঘিরেই আপত্তি রিঙ্কুর। বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “যিনি একবার বিজেপি, একবার তৃণমূল করে বেড়ান, যাঁর ১০ কোটি টাকার ঋণ শোধ নেই— তাঁকে কেন প্রার্থী করা হলো? কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হয়তো সবটা জানেন না, তাই জানাতে গিয়েছিলাম।”

রিঙ্কুর দাবি, তাঁকে প্রার্থী না করলেও ক্ষতি ছিল না, কিন্তু এলাকার কোনো স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষকে টিকিট দেওয়া যেত। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, “আমরা কোনো ক্রাইম করি না, আর ক্রাইম মেনেও নেব না।”

শমীকের হুঁশিয়ারি ও রিঙ্কুর পাল্টা

শুক্রবার সল্টলেক দপ্তরে বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কড়া সুরে বলেছিলেন, “একটা সময় পর্যন্ত টলারেট করব, তারপর আর করব না।” এর জবাবে রিঙ্কু মজুমদার বলেন, “প্রতিবাদ জানানো উচিত মনে করেছি, তাই জানিয়েছি। যখন কোনো কিছু পাল্টাতে পারব না, তখন নিজেকে পাল্টে ফেলতে হবে, ঘরে বসে যাব।”

তবে কি দলবদল করছেন দিলীপ-পত্নী?

টিকিট না পাওয়া এবং প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও দলবদলের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন রিঙ্কু। তাঁর স্পষ্ট কথা:

  • “ভদ্রলোকের একটাই ঠিকানা আর একটাই অভিভাবক হয়, সেটা বদলানো যায় না।”

  • দল না ছাড়লেও অপছন্দের প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামবেন না তিনি।

  • তবে স্বামী দিলীপ ঘোষের হয়ে প্রচারে নামতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। রিঙ্কুর কথায়, “ওঁকে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলে নিশ্চয়ই যাব, কিন্তু কোনো ক্রিমিনালের পাশে দাঁড়াব না।”

বিজেপির এই ‘ঘরের লড়াই’ এখন নির্বাচনের মুখে দলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy