১০-এ ৯ না পেলে ইস্তফা! বাংলার মসনদে বসেই বিস্ফোরক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর!

পরিবর্তনের সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে পূর্বতন বাম এবং তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি একাধিক বড় বার্তা ও চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের কার্যকাল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, বিগত দিনে সিপিআইএম বলত ‘পার্টি সরকার’ এবং পরবর্তী ১৫ বছর বলা হতো ‘আমার সরকার’, কিন্তু তাঁদের এই নতুন সরকার হল সম্পূর্ণভাবে ‘জনগণের সরকার’ এবং বাংলার ১১ কোটি মানুষের সরকার।
সরকারের ১০০ দিনের সাফল্য নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘কী করে নিজের নম্বর নিজেই দেব, তবে এ ক’দিনে আমরা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা, সাংবিধানিক কর্তব্য, জনকল্যাণ, কর্মসংস্থান এবং শিল্প বিনিয়োগের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। বাকি যোগ-বিয়োগ বা মূল্যায়ন আপনাদের হাতে ছেড়ে দিলাম। আগামী দিনেও আমাদের সরকার নিঃস্বার্থভাবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে।’’
এদিনের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করে জানান, আগামী ২০২৭ সালের ৯ মে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এক বছর পূর্ণ হবে। সেই দিন তিনি সরাসরি সাধারণ মানুষের সামনে পরীক্ষার মুখোমুখি হবেন এবং রাজ্যের জনতাই তাঁকে কাজের নম্বর দেবেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, ‘‘আমি যদি ১০-এর মধ্যে ৯ নম্বর না পাই, তবে আপনাদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে স্বীকার করে নেব যে আমি ব্যর্থ হয়েছি। তখন আপনারাই বলবেন যে আপনারা ভুল লোককে বাছনি, বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে সঠিক মানুষকেই বেছে নিয়েছেন। একটু বিশ্বাস ও ভরসা রাখুন, সময় দিন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে মিলে বাংলার কল্যাণে কাজ করবে।’’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় বিজেপি সরকারের এই ১০০ দিনের পূর্তিতে কৃষি থেকে শুরু করে শিল্প—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দ্বিগুণ গতিতে উন্নয়ন এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিনের ঝিমিয়ে পড়া স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল দশা কাটছে, পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রভূত উন্নতি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে পুলিশের প্রতি হারানো ভরসাও ফিরে আসছে। হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচিতে প্রশাসনের বাধা দেওয়ার দিন শেষ হয়েছে। বাংলায় এতদিন ধরে চলে আসা লাগামহীন তোষণের রাজনীতির কবর দিয়ে এই ১০০ দিনের বিজেপি সরকারের হাত ধরে রাজ্যে নতুন করে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটেছে। নারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে উদার দৃষ্টিভঙ্গি—এই দুয়ের নিখুঁত ভারসাম্যের মাধ্যমেই যে টিম শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন সরকার এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর, তা এদিনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।