কৃষকদের জন্য বিরাট উপহার! তামিলনাড়ুতে ৬২২০ কোটি টাকার ঋণ মকুবের ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর!

তামিলনাড়ুর কৃষকদের জন্য এক অত্যন্ত বড় ও স্বস্তিদায়ক ঘোষণা সামনে এসেছে। কৃষক অ্যাসোসিয়েশনের দীর্ঘদিনের আর্জি ও নাছোড়বান্দা আন্দোলনের পর অবশেষে রাজ্যের কৃষকদের বিশাল অঙ্কের ঋণ মকুব করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। কোঅপারেটিভ ফার্মের বা সমবায় ব্যাংক থেকে নেওয়া কৃষকদের সমস্ত বকেয়া ঋণ মকুব করে দেওয়ার এই যুগান্তকারী ঘোষণায় রাজ্যজুড়ে খুশির হাওয়া বইছে। সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপে উপকৃত হতে চলেছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সাধারণ চাষি।
সোমবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে, সমবায় ব্যাংক বা কোঅপারেটিভ থেকে যাদের ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ নেওয়া রয়েছে, তাদের সেই ঋণ ১০০ শতাংশ সম্পূর্ণ মকুব করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, যেসব চাষি ৭৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন, তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ ছাড় দেওয়া হবে। এছাড়া যেসব ঋণগ্রহীতাদের মোট ঋণের পরিমাণ ১ লাখ টাকার বেশি, তারা সর্বাধিক ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিশেষ ছাড়ের সুবিধা লাভ করবেন।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ লক্ষ ৩৮ হাজার কৃষক মাথা পিছু গড়ে ৪০ হাজার টাকা করে সরাসরি ঋণ মকুবের সুবিধা পাবেন। সবমিলিয়ে রাজ্যের প্রায় ১৩ লক্ষ ৩৪ হাজার জন কৃষকের মোট ৬,২২০ কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ ঋণ এককলমে মকুব করে দেওয়া হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক ঋণ মকুব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে রাজ্যের রাজকোষ বা সরকারি ভাঁড়ার থেকে ৯৫৩.০৬ কোটি টাকা খরচ হবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কঠোর নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমবায় ব্যাংকের সমস্ত বকেয়া ঋণ মিটিয়ে দিতে হয়। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০২১ সালে পূর্ববর্তী এআইএডিএমকে সরকার যে ঋণ মকুবের ঘোষণা করেছিল, তা বিগত ডিএমকে ও এআইএডিএমকে সরকার দীর্ঘ ১২টি কিস্তিতে মিটিয়েছিল। অথচ তাঁর সরকার মাত্র নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১৩ লক্ষেরও বেশি কৃষকের কোটি কোটি টাকার বোঝা সম্পূর্ণ নামিয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে তামিলনাড়ুতে বকেয়া ঋণ মকুবের জোরালো দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু করেছিলেন কৃষকরা। দফায় দফায় রাজ্যের বিভিন্ন মন্ত্রীদের সঙ্গে কৃষক প্রতিনিধিদের ম্যারাথন আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সরকারের তরফ থেকে ফলপ্রসূ আলোচনার আশ্বাসের পরেই কৃষকরা তাদের সেই আন্দোলন সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেন। তবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই বিশাল অঙ্কের ঋণ মকুবের ঘোষণা করা হলেও, কৃষক সংগঠনগুলির একাংশ এই সিদ্ধান্তে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তাদের পরিষ্কার বক্তব্য, সরকারের এই ঋণের প্যাকেজে ২ লক্ষ ৩৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হলেও, এখনও প্রায় ৭ লক্ষ ৪০ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিকে তাদের বিপুল ঋণের সম্পূর্ণ বোঝা একা বইতে হচ্ছে।