“১০৮ কলস জলে অভিষেক মহাপ্রভুর!”-জগন্নাথের স্নানযাত্রা আজ, জানুন এই তিথির মাহাত্ম্য

রথযাত্রার কাউন্টডাউন শুরু। আর তার ঠিক আগেই আজ, সোমবার সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে জগন্নাথদেবের পরম পবিত্র উৎসব—’স্নানযাত্রা’। পুরী থেকে শুরু করে মাহেশ, ইসকন কিংবা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জগন্নাথ মন্দিরে আজ ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ছে। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, আজকের এই দিনটিই শ্রী জগন্নাথ দেবের জন্মতিথি হিসেবে সমাদৃত।
স্নানযাত্রার রীতি ও মাহাত্ম্য: স্কন্দপুরাণ অনুসারে, রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নই প্রথম এই উৎসবের সূচনা করেছিলেন। প্রথা মেনে, স্নানযাত্রার পূর্বসন্ধ্যায় বিগ্রহগুলিকে মূল গর্ভগৃহ থেকে বের করে স্নানবেদীতে আনা হয়। আজ, পূর্ণিমা তিথিতে মন্দিরের উত্তর দিকের কূপ থেকে ১০৮টি কলস জল এনে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে তা শুদ্ধ করা হয়। এরপর সুগন্ধি চন্দন, কর্পূর ও আতর মিশিয়ে সেই জলে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে স্নান করানো হয়। বৈদিক মন্ত্রধ্বনি ও শঙ্খের আওয়াজে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর।
গজবেশ ও অনসর পর্ব: আজ সন্ধ্যাবেলা স্নান পর্ব শেষ হলে প্রভু জগন্নাথ ও বলরামকে ‘গজবেশে’ সজ্জিত করা হয়, যা এই উৎসবের এক অন্যতম আকর্ষণ। কথিত আছে, স্নানযাত্রার পরেই প্রভু জগন্নাথ অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুরু হয় ১৫ দিনের ‘অনসর’ বা নিভৃতবাস। এই সময় ভক্তদের দর্শন মেলেনা। কবিরাজদের দেওয়া আয়ুর্বেদিক পাঁচন সেবনের মাধ্যমে প্রভু এই পক্ষকাল সুস্থ হয়ে ওঠেন। এরপরই ১৬তম দিনে রথের চাকা গড়িয়ে তিনি পাড়ি দেন মাসির বাড়ি, যা আমরা ‘রথযাত্রা’ নামে চিনি।
স্নানযাত্রার দিনক্ষণ:
স্নানযাত্রা: আজ, ২৯ জুন, সোমবার।
পূর্ণিমা তিথি: ২৮ জুন রাত ২:৪৬ থেকে ২৯ জুন শেষরাত্রি ৪:৪৬ পর্যন্ত।
রথযাত্রা: ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার।
উল্টো রথযাত্রা: ২৪ জুলাই, শুক্রবার।
ভক্তদের জন্য কিছু বিশেষ নিয়ম: ধর্মশাস্ত্র ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, স্নানযাত্রার এই পুণ্যতিথিতে কিছু বিশেষ নিয়ম পালন করলে সারাবছর ঘরে সুখ-শান্তি বজায় থাকে:
ভোরবেলা গঙ্গাস্নান সেরে নতুন বস্ত্র পরিধান করা শুভ।
বাড়িতে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহে গঙ্গাজল, কাঁচা দুধ, চন্দন ও আতর মিশিয়ে স্নান করান।
শ্রীচরণের উদ্দেশ্যে ১০৮টি তুলসী পাতা নিবেদন করুন।
তিনটি মূর্তিকে গোলাপ ফুল ও পাঁচ প্রকার ফল দিয়ে সাজিয়ে পুজো করুন।
এদিন কোনো ব্রাহ্মণকে ভোজন করানো অত্যন্ত পুণ্যদায়ক বলে মনে করা হয়।
বিশ্বাস, এই বিশেষ দিনে প্রভু জগন্নাথকে নিষ্ঠাভরে দর্শন করলে ভক্তরা সর্বপাপ থেকে মুক্তি লাভ করেন। আজ মন্দিরগুলোতে চলছে হরিনাম সংকীর্তন ও বিশেষ ভোগ নিবেদনের আয়োজন।