“১০০ বছরেও এই ক্ষতি পূরণ হবে না!” বাংলার বেকার যুবকদের চাকরি নিয়ে তৃণমূলকে ধুয়ে দিলেন মোদী

২০২৬-এর নির্বাচনী প্রচারের পারদ চড়িয়ে বৃহস্পতিবার বীরভূমের সিউড়ি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে অন্যান্য সরকারি চাকরিতে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাকেই এদিন হাতিয়ার করেন তিনি। মোদীর সাফ বার্তা— বাংলার যুবকদের সঙ্গে তৃণমূল যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য।

যুবকদের সঙ্গে ‘নির্মম’ প্রতারণা: জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূলের এই নির্মম সরকার বাংলার শিক্ষিত যুবকদের বারবার ধোঁকা দিচ্ছে। সাধারণ পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনা করে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের হকের চাকরি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বাংলার যুবকদের সঙ্গে তৃণমূল যা করেছে, আগামী ১০০ বছরেও সেই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়।”

কারা চাকরি লুঠ করেছে? সরাসরি নাম না নিলেও জেলবন্দি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকেই আঙুল তোলেন মোদী। তিনি বলেন, “বাংলার মা-বোনেরা কষ্ট করে সন্তানদের পড়িয়েছেন, আর তৃণমূলের তোলাবাজরা তাঁদের সেই স্বপ্ন লুঠ করেছে। যোগ্য প্রার্থীদের চোখের জল বৃথা যাবে না। যারা চাকরি লুঠ করেছে, তাদের প্রত্যেকের বিচার হবেই হবে।”

বিজেপির প্রতিশ্রুতির সুর: প্রধানমন্ত্রী এদিন দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনা হবে। তাঁর মতে, “বাংলার মেধা আজ দেশ-বিদেশে সমাদৃত, কিন্তু নিজের রাজ্যেই তাঁরা ব্রাত্য। এই পরিস্থিতির বদল ঘটাতেই ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রয়োজন। যুবকদের ভবিষৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে এবার মানুষ তৃণমূলকে যোগ্য জবাব দেবে।”

রাজনৈতিক তাৎপর্য: রাজনৈতিক মহলের মতে, সিউড়ির সভায় মোদী যেভাবে যুবকদের কর্মসংস্থান ও নিয়োগ দুর্নীতিকে গুরুত্ব দিলেন, তা অত্যন্ত পরিকল্পিত। বিশেষ করে সন্দেশখালি বা দক্ষিণবঙ্গের নিয়োগ কেলেঙ্কারির ক্ষোভকে ভোটবাক্সে রূপান্তর করাই এখন বিজেপির প্রধান কৌশল। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘১০০ বছরের ক্ষতি’র তকমা তৃণমূলের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy