নিট (NEET-UG) পরীক্ষার বিতর্কিত পরিস্থিতির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষা UPSC প্রিলিমস নিয়ে শুরু হলো বড়সড় বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, UPSC প্রিলিমসের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এবং কোনো এক কোচিং সেন্টারের স্টাডি মেটেরিয়ালের সঙ্গে প্রশ্নপত্রের ৮২টি প্রশ্ন হুবহু মিলে গিয়েছে। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশজুড়ে।
কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (NSUI) সরাসরি UPSC-র স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। NSUI-এর প্রেসিডেন্ট বিনোদ জাখর দাবি করেছেন, ‘অনন্তম আইএএস’ (Anantam IAS) নামক একটি কোচিং ইনস্টিটিউটের স্টাডি মেটেরিয়াল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ১০০টি প্রশ্নের মধ্যে ৮২টি প্রশ্ন ওই কোচিং সেন্টারের নোটে ছিল। এমনকি প্রশ্নের বিষয়বস্তু, শব্দের প্রয়োগ এবং উপস্থাপনার ধরনও হুবহু মিলে গিয়েছে। বিনোদের আরও দাবি, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কোচিং সেন্টারটি কৌশলে তাদের নোটে পোস্ট করার তারিখ পরিবর্তন করে দিয়েছে। তাঁদের মতে, UPSC পরীক্ষা প্রক্রিয়া এবং কোচিং সেন্টারের মধ্যে গভীর আঁতাত ছাড়া এমন সমাপতন হওয়া অসম্ভব।
লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে UPSC-র মতো কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। সেই প্রস্তুতি ও স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করে এমন অভিযোগ আসায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আন্দোলনকারীরা। NSUI জানিয়েছে, এটি কোনোভাবেই কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না। অবিলম্বে UPSC-কে কৈফিয়ত দিতে হবে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছে তারা। দোষীদের শাস্তির দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ছাত্র নেতারা।
এদিকে, বিতর্ক তুঙ্গে ওঠায় মাঠে নেমেছে অভিযুক্ত কোচিং সেন্টার ‘অনন্তম আইএএস’। তারা নিজেদের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতিতে যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, ২০২৭ সালের UPSC প্রিলিমসের প্রশ্নপত্র আগেই তাদের কাছে ছিল—এই ধারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া। পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরেই তারা ব্যাখ্যাসহ উত্তরের সিরিজ প্রকাশ করেছিল। তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি নিছক একটি প্রযুক্তিগত সংশোধন ছিল, এর সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের কোনো সম্পর্ক নেই বলে কোচিং সেন্টারের দাবি।
এখন পর্যন্ত UPSC কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ক্যারিয়ার গড়ার লড়াইয়ে থাকা মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বড়সড় অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর নিয়োগকারী এই সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় এখন কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।





