যে হাতে থাকে বই, খাতা, পেন, সেই হাতেই তৈরি হচ্ছে দেবী প্রতিমা! একাদশ শ্রেণির ছাত্র স্নেহাশিস খাঁড়া তার অসাধারণ হাতের কাজের মাধ্যমে নজর কেড়েছে। হাওড়ার পাঁচলা গঙ্গাধরপুর গ্রামের এই কিশোরের হাতে তৈরি দেবদেবীর মূর্তি এখন গ্রাম ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মণ্ডপেও পুজো হচ্ছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি মূর্তি তৈরি করা এখন তার প্রধান নেশা।
বাড়ছে প্রতিমার চাহিদা
এবারের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় এই খুদে শিল্পীর উপর মূর্তি তৈরির দারুণ চাপ পড়েছে। গত বছরের থেকে এবার মূর্তি তৈরির বরাতও এসেছে বেশি।
শুরুর কথা: শৈশব থেকেই ছবি আঁকার প্রতি দারুণ আগ্রহ ছিল স্নেহাশিসের। এরপর খেলার ছলে শুরু হয় মূর্তি গড়ার কাজ। নিজে হাতে মূর্তি বানিয়ে সেই মূর্তিতে পুজো করত সে নিজেই।
স্বীকৃতি: কয়েক বছর আগে স্বামীজির একটি মূর্তি তৈরি করে প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের দ্বারা প্রশংসিত হয় স্নেহাশিস। এরপর তার মনোযোগ আরও বাড়ে।
বরাতের চাপ: প্রথমে দু-একটি বরাত এলেও বর্তমানে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কালী পুজোর সময় তার হাতে বেশ চাপ থাকে। লেখাপড়া সামলে সে মূর্তি তৈরির কাজে হাত লাগায়। লক্ষ্মীপুজো শেষ হতেই এক এক করে মূর্তি তৈরির বরাত আসতে শুরু করেছে। গত বছর যেখানে দু-একটি বরাত পেয়েছিল, এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০টি।
স্নেহাশিস জানায়, পরিবার, প্রতিবেশী এবং গ্রামের মানুষের উৎসাহেই মূর্তি গড়ার কাজ আরও বেড়েছে। রাধাকৃষ্ণ, লক্ষ্মী, লক্ষ্মী-নারায়ণ, সরস্বতী ও কালী সহ বিভিন্ন মূর্তি সে এতদিনে তৈরি করেছে। তার ইচ্ছে রয়েছে আগামীতে দুর্গা প্রতিমা গড়ার।
ছেলের কাজে গর্বিত বাবা
স্নেহাশিসের বাবা মোহন খাঁড়া জানান, শৈশব থেকে ছবি আঁকার প্রতি মনোযোগী ছিল সে। কাদা-মাটি নিয়ে খেলার ছলে মূর্তি গড়া শুরু করার পর ধীরে ধীরে সে দেবদেবীর মূর্তি তৈরি করতে শুরু করে। তিনি বলেন, “এখন গঙ্গাপুর গ্রাম ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামেও প্রতিমা যাচ্ছে দেখে বেশ ভাল লাগছে। ছেলেকে নিয়ে গর্ব হয়।”





