আহমেদাবাদের যে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়ার AI171 ফ্লাইটের ২৪১ জন যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, সেখানে এক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। প্রবাদ আছে, ‘রাখে হরি, মারে কে’, আর ঠিক সেটাই যেন সত্যি করে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে প্রাণে ফিরে এসেছেন মাত্র একজন যাত্রী – রমেশ বিশ্বাসকুমার। এই ঘটনাকে নিছক ‘মিরাকল’ বললে যেন কম বলা হবে। স্বয়ং রমেশকুমারও বিশ্বাস করতে পারছেন না, কীভাবে তিনি এই ভয়াবহ পরিণতি থেকে বেঁচে ফিরলেন।
দুর্ঘটনা কবলিত বিমানের ১১এ নম্বর আসনে বসেছিলেন রমেশ বিশ্বাসকুমার। বিমানটি যখন মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন তার চারদিকে শুধু লাশ আর ধ্বংসস্তূপের চিত্র। উদ্ধারকারী দল প্রাণের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে, আর ঠিক সেই সময় এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটে। রমেশকুমার নিজেই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং হেঁটেই স্ট্রেচারে ওঠেন। যদিও তিনি গুরুতর আঘাত পেয়েছেন, কিন্তু প্রাণে বেঁচে যাওয়াটা এক বিশাল ব্যাপার।
আজ তক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’ রমেশ বিশ্বাসকুমার তাঁর ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আচমকা প্রবল ঝাঁকুনি অনুভব করেছিলাম। হঠাৎ চোখ খুলতেই দেখলাম, চতুর্দিকে আগুন লেগে গিয়েছে। সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছিল যে, বুঝে উঠতেই পারিনি।”
তিনি জানান, এরপর তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেছিলেন। জ্ঞান ফিরতেই যে দৃশ্য দেখলেন, তা ছিল আরও ভয়াবহ। “জ্ঞান ফিরতেই দেখি, আমার আশেপাশে মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কোনোমতে উঠে দাঁড়িয়ে ছুটতে শুরু করি। তারপর দেখলাম কেউ একজন আমায় সাহায্য করল অ্যাম্বুল্যান্সে উঠতে,” বিভীষিকাময় সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন।
রমেশ বিশ্বাসকুমারের বোর্ডিং পাসটি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। 11A নম্বর আসনের এই যাত্রীর প্রাণে বেঁচে যাওয়ার ঘটনাকে অবিশ্বাস্য বলে আখ্যায়িত করছেন সকলে। এটি যেন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার এক জীবন্ত প্রমাণ। গোটা দেশ এখন এই একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে, যাতে তিনি সুস্থ হয়ে এই দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য দিতে পারেন। এই ঘটনা সত্যিই প্রমাণ করে, ভাগ্য সহায় থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা থেকেও ফিরে আসা সম্ভব।