রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই এক শিহরণ জাগানো হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর নবগঠিত বিজেপি সরকারের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রুথের রহস্যজনক মৃত্যুতে তোলপাড় শুরু হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। এবার সেই মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে বড় পদক্ষেপ—প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বীভৎসতার ছবি রিপোর্ট অনুযায়ী, চন্দ্রনাথের মৃত্যু স্রেফ সাধারণ কোনও দুর্ঘটনা বা বিক্ষিপ্ত হামলা নয়, এটি ছিল অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার একটি ‘টার্গেট কিলিং’। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরে তিনটি বুলেটের ক্ষত পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল বুকের বাঁ-দিকের আঘাতটি। বুলেটটি সরাসরি তাঁর হৃৎপিণ্ড এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়ে শরীরের অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। এই ধরনের আঘাতের পর কোনও মানুষের বেঁচে থাকা চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে কার্যত অসম্ভব।
পেশাদার শুটারের ছক? তদন্তকারী আধিকারিকদের নজর কেড়েছে গুলির নির্ভুল নিশানা। যেভাবে অত্যন্ত কাছ থেকে সরাসরি হৃৎপিণ্ড লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে এই অপারেশনের নেপথ্যে ছিল কোনও প্রশিক্ষিত ঘাতক বা পেশাদার ‘সুপারি কিলার’। শরীরের পেছনেও গুলির চিহ্ন মিলেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে আক্রান্ত হওয়ার পর চন্দ্রনাথ বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ঘাতকরা তাঁকে বিন্দুমাত্র সুযোগ দেয়নি।
ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত চন্দ্রনাথের এই পরিণতি কেবল একটি ব্যক্তিগত অপরাধ নাকি এর পেছনে কোনও গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত হত্যা’ বলে দাবি করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর সময় এবং ধরণ নিশ্চিত হওয়ার পর এবার ঘাতকদের সন্ধানে লালবাজারের গোয়েন্দারা উত্তরবঙ্গের সীমান্ত পর্যন্ত জাল বিছিয়েছেন।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ পুলিশ সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চার্জশিট তৈরি করা হবে। চন্দ্রনাথের দেহে পাওয়া বুলেটের অংশ ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে যাতে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটির ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। একই সঙ্গে চন্দ্রনাথের শেষ সাত দিনের কল রেকর্ড এবং তাঁর গতিবিধির সিসিটিভি ফুটেজ নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিলোত্তমার বুকে এক হেভিওয়েট নেতার আপ্ত সহায়ককে এভাবে পেশাদার কায়দায় সরিয়ে দেওয়া যে বড়সড় কোনও ঝড়ের ইঙ্গিত, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।





