বঙ্গ জয়ের আনন্দের মাঝেই বিষাদের সুর গেরুয়া শিবিরে। বিজেপি নেতা তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে এবার রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন সদ্য নির্বাচিত খড়গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার নিহত চন্দ্রনাথের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। তাঁর সাফ বার্তা— “বাংলায় গত ১৫ বছর ধরে চলা গুলি-বন্দুকের সংস্কৃতি এবার আমরা সমূলে উপড়ে ফেলব।”
“জেতার পরেও ক্ষমতা আসেনি আমাদের হাতে” নির্বাচনী ফলাফলে বিজেপি ২০০-র বেশি আসন পেলেও, রাজ্যে এখনও ক্ষমতার ‘ট্রানজিশন’ বা হস্তান্তর সম্পন্ন হয়নি। আর এই সুযোগটাকেই একদল সমাজবিরোধী কাজে লাগাচ্ছে বলে মনে করছেন দিলীপ ঘোষ। এদিন তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় চলে এসেছে ঠিকই, কিন্তু শাসনভার এখনও আমাদের হাতে পৌঁছায়নি। আর সেই ফাঁকেই শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ককে সরিয়ে দেওয়া হলো। এই অরাজকতা আর বেশিদিন চলতে দেওয়া যাবে না।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দিলীপ ঘোষের নিশানায় এদিন ছিল রাজ্য পুলিশও। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ সব জেনেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। “পুলিশ যদি সক্রিয় হতো, তবে অপরাধীরা এভাবে প্রকাশ্যে শ্যুটআউট করার সাহস পেত না। প্রশাসনের মদত ছাড়া এমন কাজ অসম্ভব। তবে মনে রাখবেন, খুব শীঘ্রই সময় বদলাচ্ছে। তখন প্রতিটি বুলেটের হিসেব দিতে হবে,” বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তৃণমূলের অন্দরের লড়াই? খুন নিয়ে তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগকে নস্যাৎ করে দিয়ে দিলীপ বাবু বলেন, “তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের লড়াইয়ে রক্ত ঝরছে, আর দোষ চাপানো হচ্ছে বিজেপির ওপর। চন্দ্রনাথ একজন ভালো মানুষ ছিলেন, তাঁকে সরিয়ে দিয়ে আসলে শুভেন্দু অধিকারীকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু যারা গুলি চালিয়ে রাজনীতি করতে চায়, তাদের জায়গা খুব শীঘ্রই শ্রীঘরে হবে।”
শান্তির বার্তা, না কি ঝড়ের পূর্বাভাস? দিলীপ ঘোষ এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার রাজ্যে কোনওরকম প্রতিহিংসার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেবে না, কিন্তু সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে হবে ‘জিরো টলারেন্স’। তাঁর কথায়, “বাংলাকে শান্ত করার জন্যই মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন। গুলি-বন্দুক দিয়ে মানুষকে ভয় দেখানোর দিন শেষ হতে চলেছে।”
চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মধ্যমগ্রাম ও ডোহরিয়া এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে। দিলীপ ঘোষের এই ‘অ্যাকশন’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি রাজ্যের আসন্ন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার।





