হৃদরোগ থেকে ‘ক্লাবফুট’-এর বিনামূল্যে চিকিৎসা! শিশুদের বিশেষ চিকিৎসায় বাংলার নজির, কী কী সুবিধা দিয়েছে ‘শিশু সাথী’ প্রকল্প?

শিশুদের বিশেষ ধরণের চিকিৎসায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার এক বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে তিনি রাজ্যের এই বিশেষ উদ্যোগ ‘শিশু সাথী’ প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন এবং এর মাধ্যমে রাজ্যের শিশুদের সর্বোত্তম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার আমাদের শিশুদের সর্বোত্তম স্বাস্থ্যসেবার জন্য সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০১৩ সালে চালু হওয়া ‘শিশু সাথী’ প্রকল্প তার একটি প্রধান উদ্যোগ।”

৩০০ কোটির ব্যয়, ৬৩ হাজারের বেশি শিশুর চিকিৎসা
মুখ্যমন্ত্রী তার পোস্টে জানান, ২০১৩ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্য সরকার এ পর্যন্ত ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। আর এই বিপুল খরচের মাধ্যমে ৬৩,০০০-এরও বেশি শিশুর জন্মগত বিশেষ রোগের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

‘শিশু সাথী’ প্রকল্পের অধীনে মূলত যে জটিল রোগগুলির বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়, সেগুলি হলো:

জন্মগত হৃদরোগ (Congenital Heart Disease)

ঠোঁট/তালু কাটা (Cleft Lip/Palate)

ক্লাবফুট (Clubfoot)

নিউরাল টিউব ত্রুটি (Neural Tube Defects)

তিনি নিশ্চিত করেন, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল— “যাতে কোনও শিশু বাদ না পড়ে!”

কী এই ‘ক্লাবফুট’ ও ‘নিউরাল টিউব’ ত্রুটি?
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ক্লাবফুট’ হলো পায়ের একটি সাধারণ জন্মগত ত্রুটি, যেখানে এক বা উভয় পা ভিতরের দিকে এবং নীচের দিকে ঘোরানো থাকে। অন্যদিকে, ‘নিউরাল টিউব’ ত্রুটি হলো ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড গঠনে সমস্যা, যা গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে ঘটে। এর ফলে ‘স্পাইনা বিফিডা’ বা ‘অ্যানেন্সফালি’-এর মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর স্বাস্থ্য মহলে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের দাবি, এই ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসায় এই বিপুল সংখ্যক শিশুর জীবন রক্ষা করা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর একটি বড় সাফল্য।