মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার নতুন আশঙ্কার মেঘ। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তজনা তো ছিলই, এবার উদ্বেগ বাড়িয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘বাব এল-মান্দেব’ (Bab el-Mandeb Strait)। বিশেষজ্ঞদের দাবি, লোহিত সাগরের এই প্রবেশদ্বারটি যদি হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে বন্ধ হয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড়সড় ধস নামতে পারে।
হুথিদের ‘মরণকামড়’ দেওয়ার হুমকি: ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা বর্তমান পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। ইরানের ওপর হামলা বাড়লে বা পরিস্থিতি হাতের বাইরে গেলে তারা যে কোনও মুহূর্তে এই জলপথে যুদ্ধের ফ্রন্ট খুলে দিতে পারে। ইতিপূর্বেও ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধের সময় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পণ্যবাহী জাহাজে হামলার নজির গড়েছে এই গোষ্ঠী।
কেন এই জলপথকে নিয়ে এত আতঙ্ক? বাব এল-মান্দেব শুধু একটি নাম নয়, এটি বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন।
-
পণ্যের যাতায়াত: লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ বাণিজ্যিক পণ্য সুয়েজ খালের দিকে যায়।
-
বিকল্প নেই: এই পথ বন্ধ হলে জাহাজগুলিকে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে (Cape of Good Hope) যাতায়াত করতে হবে। এতে সময় বাড়বে ১০ থেকে ১৫ দিন এবং পরিবহণ খরচ আকাশছোঁয়া হবে।
-
তেল ও গ্যাস: সমুদ্রপথে পরিবাহিত খনিজ তেলের বড় একটি অংশ এই পথেই যায়। ফলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে আপনার রান্নাঘরের এলপিজি সিলিন্ডার থেকে শুরু করে পেট্রোল-ডিজেলের দামে।
সংঘাতের মেঘে অন্ধকার বিশ্ব অর্থনীতি: কূটনৈতিক মহলের মতে, হুথিরা বর্তমানে তাদের শক্তি সঞ্চয় করে রাখলেও পরিস্থিতি বদলালে তারা সমুদ্রপথকে হাতিয়ার করবে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম চড়তে শুরু করেছে। যদি হরমুজ এবং বাব এল-মান্দেব—উভয়ই অচল হয়ে পড়ে, তবে বিশ্ব এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে পড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই আঞ্চলিক সংঘাত এখন আর কেবল সীমান্তের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, তা ধীরে ধীরে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন এবং সাধারণ মানুষের পকেটে টান মারার উপক্রম তৈরি করেছে।