হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বিখ্যাত করোনেশন ব্রিজ? নাকি AI-এর অপব্যবহার! সামনে এল আসল সত্যি

দার্জিলিংয়ের সঙ্গে শিলিগুড়ির সংযোগকারী ঐতিহ্যবাহী করোনেশন ব্রিজ ভেঙে পড়ার একটি ভয়াবহ ভিডিও গত কয়েকদিন ধরে সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছিল। এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা এই ভুয়ো ভিডিওটি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র আতঙ্ক ও জল্পনার সৃষ্টি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত জানা গেল, এটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এআই-এর অপব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

ভয়ঙ্কর ভিডিও, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া গুজব
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছিল, জনবহুল সেবকের করোনেশন ব্রিজ ভয়ঙ্করভাবে ভেঙে পড়ছে, যা দেখে যে কারও মনে ভয় জাগতে বাধ্য। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে এই ব্রিজ কেবল একটি সংযোগকারী পথ নয়, এটি তাদের দৈনন্দিন জীবন ও আবেগের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই “সত্যিই করোনেশন ব্রিজ ভেঙে পড়েছে কি না” তা নিয়ে শুরু হয় তুমুল জল্পনা। বহু মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পরিচিতদের ফোন করতে শুরু করেন, যার ফলে একটি অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের তৎপরতা ও অভিযোগ দায়ের
বিষয়টি নজরে আসতেই তৎপর হয় পুলিশ প্রশাসন। দ্রুত অনুসন্ধানের পর জানা যায়, গোটা ভিডিওটিই এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা একটি মিথ্যে চিত্র। পঞ্চম ওরাও ওরফে রাহুল কুজুর নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই ভুয়ো ভিডিও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ডুয়ার্স ফোরামের পদক্ষেপ ও প্রশাসনের কড়া বার্তা
এই ঘটনা সামনে আসার পর ডুয়ার্স ফোরামের সদস্য ও সমাজসেবী দেবজিত সরকার জেলা পুলিশ, নাগরাকাটা থানা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এআই-এর অপব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোয় সামাজিক স্থিতি বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার খণ্ডবহলে উমেশ গণপত নিশ্চিত করেছেন যে, কে বা কারা এই ভুয়ো ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করল, তা খুঁজে বের করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

এআই প্রযুক্তির এমন অপব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে জনজীবনে আরও বড় ধরনের বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ধরনের সাইবার অপরাধ রুখতে আরও কঠোর আইন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।