আজ বুধবার, বাংলার ভাগ্য নির্ধারণের চূড়ান্ত ক্ষণ। সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ। সকাল ৭টা থেকেই কলকাতা থেকে হুগলি, কিংবা নামখানা থেকে বর্ধমান—সর্বত্রই ধরা পড়েছে গণতন্ত্রের উৎসবের চেনা ছবি। সন্ধে ৭টা পর্যন্ত চলবে এই মহাযুদ্ধ। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বেলা বাড়লে দহন বাড়বে, তাই রোদের তেজ থেকে বাঁচতে সাতসকালেই বুথে বুথে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। অভূতপূর্ব নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে প্রতিটি কেন্দ্রকে।
গলসিতে সম্প্রীতির ভোটদান
পূর্ব বর্ধমানের গলসি বিধানসভার উচ্চ গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা গেল এক অনন্য দৃশ্য। বুথে ঢোকার মুখেই রবীন্দ্র-নজরুলের আবক্ষ মূর্তি। সম্প্রীতির সেই মূর্তিকে সাক্ষী রেখেই ভোটাররা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন। ভোর থেকেই এখানে পুরুষ ও মহিলাদের লম্বা লাইন। সাধারণ মানুষের স্পষ্ট কথা, “উন্নয়ন আর অধিকারের টানেই এই সাতসকালে আসা।”
হুগলিতে হেভিওয়েটদের লড়াই
হুগলির ১৮টি আসনে আজ কড়া টক্কর। উত্তরপাড়া থেকে পাণ্ডুয়া—প্রতিটি বুথেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ততা চোখে পড়ার মতো। হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দেবাংশু ভট্টাচার্য, ইন্দ্রনীল সেন এবং বেচারাম মান্না সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথ চষে ফেলছেন। ইভিএম বিভ্রাট কিংবা ভোটকর্মীদের অসুস্থতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।
দক্ষিণের ছবি: উৎসাহ ও যান্ত্রিক গোলযোগ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর ও নামখানায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে উৎসবের মেজাজে। তবে পাথরপ্রতিমা বিধানসভার পশ্চিম শ্রীধরপুর বুথে সকাল সকাল কিছুটা চাঞ্চল্য ছড়ায়। সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত এই বুথটি নারীশক্তির অনন্য উদাহরণ হলেও, ভোট গ্রহণে সামান্য দেরি হওয়ায় লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। যদিও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে প্রশাসন।
বর্ধমানের পাটিগণিত
শহর বর্ধমানের ১৬টি আসনে আজ কড়া নিরাপত্তা। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, পূর্ব বর্ধমানে মোট ৩৭ লক্ষ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভোটার রয়েছেন। সবথেকে বড় ভোটার কেন্দ্র রায়না। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি বুথে মাইক্রো অবজারভার ও ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের যৌথ টহলদারি চলছে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে। প্রথম দফায় ভোটের হার নজির গড়েছিল, এখন দেখার শেষ দফায় বাংলা কার দিকে পাল্লা ভারি করে।





