মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন বারুদের গন্ধে ভারী, ঠিক তখনই প্রশান্ত মহাসাগরের বুক কাঁপিয়ে ‘ডুমসডে’ বা প্রলয়ঙ্কারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল আমেরিকা। মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় ‘মিনিটম্যান ৩’। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার চেয়েও অন্তত ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী।
নিশানায় মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
মার্কিন বায়ুসেনার গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড জানিয়েছে, ‘জিটি ২৫৪’ নামক এই নিরস্ত্র রকেটটি কয়েক হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। যুদ্ধের আবহে আমেরিকার এই শক্তিপ্রদর্শন আসলে ইরান ও তার অক্ষশক্তিকে এক চরম সতর্কবার্তা বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
পরমাণু কেন্দ্রে হামলার হুমকি ইরানের
আমেরিকার এই আস্ফালনের মুখেই পালটা হুঙ্কার ছেড়েছে তেহরান। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে তাদের বর্তমান শাসনব্যবস্থা বা ‘রেজিম’ উৎখাতের চেষ্টা করে, তবে তারা সরাসরি ইজরায়েলের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে মিসাইল হামলা চালাবে। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তাঁদের সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হলো ইরানি জনগণের সহায়তায় বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা।
পুলিশ স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা
সূত্রের খবর, ইজরায়েলি ও মার্কিন বোমারু বিমানগুলো এখন কেবল সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) পাশাপাশি তেহরানের বেশ কিছু পুলিশ স্টেশনেও হামলার খবর মিলেছে। এর ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।