হিমাচলে কলেজছাত্রী সিয়া খুনে হাড়হিম করা তথ্য! নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে ফিরেই কেন এই নৃশংসতা?

হিমাচল প্রদেশের সরকাঘাটে কলেজছাত্রী সিয়া হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত বিকাশকে নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। বর্তমানে পুলিশি রিমান্ডে থাকা অভিযুক্তের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে মান্ডি জেলার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডিএসপি সঞ্জীব গৌতম খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, মঙ্গলবার কড়া পুলিশি পাহারায় নিজের পৈত্রিক গ্রামে সিয়ার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত বিকাশ আগে থেকেই নিজের কাছে ধারালো অস্ত্র রাখত। ঘটনার দিন সে উন্মত্তের মতো সিয়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্থানীয় এক মহিলা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী, যার সাক্ষ্যকে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় যুবকরা তাকে ধরার চেষ্টা করলে সে তাদের ওপরও চড়াও হয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, বিকাশ নিয়মিত ভাঙ খেত এবং নেশার কারণে পরিবার তাকে নেশামুক্তি কেন্দ্রেও পাঠিয়েছিল। সে লুধিয়ানায় কর্মরত ছিল এবং নিজের মায়ের মোবাইল ফোন ব্যবহার করত, যা ইতিমধ্যেই পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই খুনের পিছনে এখনও কোনো নির্দিষ্ট মোটিভ খুঁজে পায়নি পুলিশ। বিধায়ক চন্দ্রশেখর সিয়ার পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলেন, এটি কোনো পরিকল্পিত আক্রোশ নয়, বরং অভিযুক্তের চরম মানসিক বিকৃতি ও পাগলামির ফল। সিয়া দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছেন মাত্র।

অভিযুক্তের মা সংবাদমাধ্যমের কাছে ভেঙে পড়ে বলেন, “ঘটনার দিন আমি ঘাস কাটতে গিয়েছিলাম। আমার ছেলে যদি সত্যিই এই খুন করে থাকে, তবে ওর ফাঁসি হওয়া উচিত।” এদিকে, সিয়ার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সিয়ার বাবা পেশায় ট্রাক চালক। ভাঙাচোরা কাঁচা বাড়িটিতে সবেমাত্র প্লাস্টারের কাজ শুরু হয়েছিল, কিন্তু তার আগেই এক লহমায় শেষ হয়ে গেল ছয় জনের সাজানো পরিবারটি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy