হাসপাতালের ICU-তে ‘মৃত্যুফাঁদ’! জয়পুরের SMS-এ ভয়াবহ আগুন, ৬ রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু

রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের সওয়াই মান সিং (SMS) হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে রবিবার রাতে ঘটে গেল এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড। ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) শর্ট সার্কিট থেকে লাগা আগুনে ৬ জন রোগীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

জানা গিয়েছে, রবিবার রাত আনুমানিক ১১টা বেজে ১০ মিনিট নাগাদ ট্রমা কেয়ার সেন্টারের দ্বিতীয় তলের নিউরো আইসিইউ ওয়ার্ড থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন রোগীর আত্মীয়রা। তাঁরা দ্রুত হাসপাতাল স্টাফদের বিষয়টি জানান। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে হু হু করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন, বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা ওয়ার্ড।

হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের প্রধান অনুরাগ ধাকড় জানিয়েছেন, দ্বিতীয় তলে দুটি ICU ছিল— একটি ট্রমা ICU এবং একটি সেমি ICU। ট্রমা ICU-তেই শর্ট সার্কিট হয় এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় ট্রমা ICU-তে ১১ জন এবং সেমি ICU-তে ১৩ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। মৃত ৬ জনই ট্রমা ICU-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁদের বেশিরভাগেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক বা অচেতন (Comatose) ছিল।

আগুন লাগার পর রোগীদের চিৎকারে ও ধোঁয়ায় চারদিকে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে রোগীর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের বেড থেকে তাঁদের প্রিয়জনদের তুলে দ্রুত রাস্তায় নিয়ে আসেন। হাসপাতালের কর্মীরাও অন্য ওয়ার্ডের রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী এক আত্মীয়ের কথায় উঠে আসে মর্মান্তিক চিত্র। তিনি বলেন, “রাত ১১টা ২০ মিনিট হবে, যখন ICU থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখি। ডাক্তারদের বারবার বলেছিলাম, রোগীদের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু ততক্ষণে ধোঁয়া বাড়তে শুরু করেছে।” এই দুর্ঘটনায় তিনি তাঁর ২৫ বছর বয়সী মাসতুতো ভাই-কে হারান, যার ১-২ দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার কথা ছিল।

দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৬ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে, যদিও তাঁদের বাঁচানোর জন্য সিপিআর (CPR) প্রয়োগ করা হয়েছিল। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফের একবার দেশের এক নামী সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়ল।