“হারাব… হারাব… হারাব…!” ভবানীপুরে মমতার দুয়ারে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার শুভেন্দুর, পুলিশকে নজিরবিহীন আক্রমণ

নন্দীগ্রামের হাই-ভোল্টেজ লড়াই মিটলেও বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে ভবানীপুরকে কেন্দ্র করে। শেষ দফার নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই মুখোমুখি দুই যুযুধান পক্ষ—তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি হেভিওয়েট শুভেন্দু অধিকারী। রবিবাসরীয় বিকেলে সেই ভবানীপুরেই প্রচারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় দাঁড়িয়ে পুলিশ ও তৃণমূলকে তুলোধোনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী।

ঠিক কী ঘটেছিল?
এদিন ভবানীপুর কেন্দ্রে পদযাত্রার মাধ্যমে জনসংযোগ করছিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে ঠাসা সেই মিছিলে আচমকাই ছন্দপতন ঘটে। অভিযোগ, শুভেন্দুর মিছিল যখন এগোচ্ছে, ঠিক সেই সময় পাশেই মাইকে উচ্চৈঃস্বরে বাজতে শুরু করে তৃণমূলের নির্বাচনী গান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুভেন্দুর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁর প্রচারে বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে এবং পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

পুলিশকে তীব্র আক্রমণ ও হুঁশিয়ারি:
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মেজাজ হারান শুভেন্দু। সরাসরি কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার পুলিশ আধিকারিকদের দিকে আঙুল তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, “এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে কথা বলছেন? আপনাদের কথা মেনে আমি মমতার বাড়ির দিকে যাইনি, কিন্তু মাইকটা বাজছে কেন? আপনাদের বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ জানাব।” এখানেই থামেননি তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে তৃণমূলকে ‘ইতর’ ও ‘নর্দমার জল’-এর সঙ্গে তুলনা করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছোঁড়েন, “মমতাকে এইভাবে জেতানো যাবে না। হারাব… হারাব… হারাব…।”

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, প্রশাসন একতরফাভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের পাল্টা দাবি, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে এসে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করে শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছেন। সব মিলিয়ে শেষ দফার ভোটের আগে ভবানীপুর এখন আক্ষরিক অর্থেই বারুদের স্তূপ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy