“হাতে মাত্র ২৫ দিনের তেল!”-চরম সংকটে ভারত, বিপদের বন্ধু হয়ে কী করলেন পুতিন?

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা। ইরান যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পৌঁছাল ভারতের রান্নাঘরে এবং পেট্রোল পাম্পে। হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে। আর এই চরম সংকটের মুহূর্তে ফের একবার ভারতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে পুরনো বন্ধু রাশিয়া।

মজুত তেল ফুরিয়ে আসছে?
সূত্রের খবর, ভারতের হাতে এই মুহূর্তে মাত্র ২৫ দিনের কাজ চালানোর মতো অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। যা দিয়ে পেট্রোল, ডিজেল বা অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়বে। কেন্দ্রীয় সরকার আশঙ্কা করছে, এই পরিস্থিতি আরও ১০ থেকে ১৫ দিন চলতে পারে।

বিপদের ত্রাতা ‘বন্ধু’ রাশিয়া
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক ইন্ডাস্ট্রি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ভারতের জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে সমুদ্রপথে রওনা দিয়েছে প্রায় ৯.৫ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল। প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেলেই কয়েক দিনের মধ্যে এই বিশাল তেলের ভাণ্ডার ভারতের বন্দরে এসে পৌঁছাবে। ভারত তার চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ জ্বালানি এই রুশ তেল থেকেই মেটাতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কাঁটা সেই হরমুজ প্রণালী ও ট্রাম্পের হুমকি
ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হলো ‘হরমুজ প্রণালী’। এই সরু পথ দিয়েই ভারতের মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ তেলের জাহাজ যাতায়াত করে। বর্তমানে যুদ্ধের কারণে এই পথ বন্ধ থাকায় সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়েছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিও ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও ট্রাম্প সম্প্রতি ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির খাতিরে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক তুলে নিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে পুতিনের দেশ থেকে তেল কেনা চালিয়ে গেলে পুনরায় ট্যারিফ বা শুল্ক চাপানো হতে পারে।

বিশেষজ্ঞের মত: ভারত প্রতিদিন গড়ে ৫.৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রিফাইন করে। এই বিশাল চাহিদা মেটাতে আপাতত রাশিয়ার ওপর ভরসা করা ছাড়া মোদী সরকারের কাছে দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই। এখন দেখার, ট্রাম্পের ‘হুঁশিয়ারি’ এড়িয়ে ভারত কীভাবে এই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy