আপনি কি এমন একটি চায়ের দোকানের কথা শুনেছেন, যেখানে বিক্রেতা নিজেই হাতকড়া পরে চা পরিবেশন করেন? বিশ্বাস না হলেও, এমনই এক চা-এর দোকানের সন্ধান মিলেছে রাজস্থানের অন্তা এলাকায়। এই অভিনব উদ্যোগের পেছনে রয়েছে এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন লড়াই এবং পণ প্রতারণা মামলার বিরুদ্ধে এক তীব্র সামাজিক বার্তা।
চা বিক্রেতার নাম কেকে ধাকড়। তাঁর স্ত্রী মীনাক্ষী তাঁর বিরুদ্ধে পণ প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন, যা IPC-498A ধারায় নথিভুক্ত হয়েছে। এই মামলার জেরে গত তিন বছর ধরে আদালতের চক্কর কাটতে কাটতে তিনি অতিষ্ঠ। তাঁর অভিযোগ, এই মামলার কারণে তাঁর ব্যবসা ও UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি সবই থমকে গেছে। শেষ পর্যন্ত, নিজের জীবনকাহিনি তুলে ধরতে এবং সমাজের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে তিনি শ্বশুরবাড়ির সামনেই এই চায়ের দোকানটি খুলেছেন। দোকানের নামও রাখা হয়েছে প্রতীকীভাবে “IPC-498A টি ক্যাফে”।
কেকে ধাকড়ের স্ত্রী মীনাক্ষীর অভিযোগ, তাঁর নাম ব্যবহার করে স্বামী বাজার থেকে প্রচুর টাকা ঋণ নিয়েছেন। যদিও কেকে ধাকড়ের দাবি ভিন্ন। তিনি জানান, ২০১৮ সালের ৬ জুলাই মধ্যপ্রদেশের নীমজ জেলার উঠানা এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণকুমার ওরফে কেকে ধাকড়ের বিয়ে হয় রাজস্থানের অন্তা নিবাসী মীনাক্ষীর সঙ্গে। ২০১৯ সালে মীনাক্ষীর জন্মস্থান অন্তা থেকেই কেকে ধাকড় মৌমাছি প্রতিপালনের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর মধ্যপ্রদেশে ফিরে এসে এই দম্পতি মৌমাছি প্রতিপালনের ব্যবসা শুরু করেন, যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং অনেক মহিলাকে স্বাবলম্বী করে তোলে। মধু বিক্রি করে তারা বেশ লাভবানও হচ্ছিলেন।
কিন্তু ২০২২ সালে কেকে ধাকড়ের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। বিরক্ত হয়ে মীনাক্ষী বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং কয়েক মাস পর তাঁর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন ও পণ প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। তারপর থেকেই কেকে ধাকড়কে আইনের প্যাঁচে ঘুরতে হচ্ছে, ব্যবসা লাটে উঠেছে।
কেকে ধাকড়ের চা-এর দোকান 498A টি ক্যাফেতে একটি বরের কাট আউটও বসানো হয়েছে, যার হাতেও হাতকড়া পরানো আছে। এটি দিয়ে বোঝানো হচ্ছে, কীভাবে স্ত্রীর দায়ের করা পণ মামলার কারণে স্বামীরা অসহায় হয়ে পড়ছেন।
আজ তক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেকে ধাকড় বলেন, “সৌরভ-মুসকান মামলা থিতিয়ে যেতে না যেতেই সোনম-রাজার ঘটনা প্রকাশ্যে এল। মহিলাদের হাতে ইদানিং স্বামীরা নির্যাতিত হন। আমার সঙ্গেও এমনই ঘটনা ঘটেছে। সব বরবাদ হয়ে গিয়েছে আমার। অনেকবার মনে হয়েছে আত্মহত্যা করি। কিন্তু আমার বয়স্ক মা-এর একমাত্র ভরসা আমি। তাই মা-এর মুখের দিকে তাকিয়ে চা-এর ব্যবসা করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। একইসঙ্গে সামাজিক বার্তাও দিতে চাইছি।”
অতুল সুভাষ থেকে শুরু করে সৌরভ-মুসকান এবং সাম্প্রতিক সোনম-রাজা রঘুবংশী মামলা – দেশজুড়ে এমন ঘটনাগুলো নতুন করে আলোচনায় এনেছে পণ আইনের অপব্যবহারের বিষয়টি। কেকে ধাকড়ের এই অভিনব প্রতিবাদ সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।