“হাড় পর্যন্ত পুড়িয়ে দেয় এই বিষাক্ত রাসায়নিক!”-যুদ্ধে কি পাউডার ব্যবহার করছে ইজরায়েল?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার আরও এক ভয়ংকর মোড়। দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানের সময় ইজরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ‘হোয়াইট ফসফরাস’ (White Phosphorus) ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই মারণাস্ত্রের প্রয়োগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

কোথায় ও কীভাবে হামলা?

সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, দক্ষিণ লেবাননের ইওহমোর (Yohmor) নামক একটি গ্রামে আর্টিলারি হামলার সময় এই রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন Human Rights Watch (HRW) দাবি করেছে, ছবি ও ভিডিও তথ্য যাচাই করে তারা এই হামলার অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে। ওই গ্রামের আবাসিক এলাকায় এই মারণ গোলার ব্যবহার সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

কেন হোয়াইট ফসফরাস এত ভয়ংকর?

এটি অত্যন্ত বিতর্কিত একটি রাসায়নিক অস্ত্র, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী এবং নৃশংস।

  • স্বতঃস্ফূর্ত দহন: বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলেই এটি ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় জ্বলে ওঠে।

  • শরীরের ক্ষতি: এর শিখা মানুষের চামড়া পুড়িয়ে দিয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করে, যা কখনও কখনও হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

  • বিষাক্ত ধোঁয়া: এর ধোঁয়া ফুসফুস বিকল করে দিতে পারে, যা থেকে শ্বাসকষ্ট ও মৃত্যু অবধারিত।

ইজরায়েলের আত্মপক্ষ সমর্থন

অভিযোগ উঠলেও ইজরায়েলি সেনাবাহিনী এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে অতীতে তারা দাবি করেছে যে, হোয়াইট ফসফরাস তারা মারণাস্ত্র হিসেবে নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে ধোঁয়ার আড়াল বা ‘স্মোক স্ক্রিন’ তৈরির জন্য ব্যবহার করে থাকে। যদিও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এর ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ার মুখে।

লেবাননে লাশের পাহাড়

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ৮ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে ইজরায়েলি বিমান হামলায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে:

হতাহতের পরিসংখ্যান:

  • মোট মৃত্যু: ৪০০ জন (যার মধ্যে ৮৩ শিশু ও ৪২ মহিলা)।

  • আহত: ১,১৩০ জনেরও বেশি।

  • ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: দক্ষিণ লেবানন, বেকা উপত্যকা এবং বৈরুত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy