কলকাতার আইকনিক ‘হলুদ ট্যাক্সি’ মানেই নস্টালজিয়া। সেই পরিচিত রূপ বজায় রেখেই এবার পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ভার্সন (EV) নিয়ে এল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ডিভিসি (DVC)-র আর্থিক সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দীর্ঘদিনের এই গবেষণার ফল এখন সবার সামনে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে এল এই বিশেষ ট্যাক্সিটি, যা শহরবাসীকে উপহার দিল এক নতুন দিশা।
এতদিন পর্যন্ত ইঞ্জিনের আওয়াজ আর ধোঁয়া বেরোনো হলুদ ট্যাক্সিতে অভ্যস্ত ছিল শহরবাসী। কিন্তু দূষণ কমাতে এবং বৈদ্যুতিক পরিবহণ ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষকরা এই অভিনব উদ্যোগটি নিয়েছেন। পুরনো গাড়ির কাঠামো ঠিক রেখেই তার ভেতরে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক মোটর ও শক্তিশালী ব্যাটারি প্যাক।
এই ইভি ট্যাক্সির বিশেষত্ব:
দূষণহীন: কোনো ধোঁয়া নির্গত হবে না, যা কলকাতার বায়ুদূষণ কমাতে বড় ভূমিকা নেবে।
খরচ সাশ্রয়ী: ডিজেলের তুলনায় ইলেকট্রিক চার্জিং অনেক বেশি সস্তা, যা চালকদের আয়ের পথ আরও সুগম করবে।
সাশ্রয়ী রূপান্তর: পুরনো গাড়ি ফেলে না দিয়ে তাকে নতুনের রূপ দেওয়ার এই প্রযুক্তি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ট্যাক্সিটি একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। বৃহস্পতিবার যখন গাড়িটি রাস্তায় নামে, তখন বহু মানুষ উৎসুক হয়ে সেটি দেখতে ভিড় জমান।
পুরনো ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রযুক্তির মোড়কে এভাবে নতুন জীবন দেওয়ার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রশংসা চলছে সর্বত্র। পরিবেশ রক্ষা ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন কি তবে কলকাতার চিরচেনা হলুদ ট্যাক্সিকে এক নতুন ভবিষ্যৎ দেবে? এখন সেই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় শহরবাসী।





