হরমুজ প্রণালী আমেরিকার নতুন অঞ্চল! ট্রাম্পের দাবির পরই কঠোর অবস্থান নিল ইরান!

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন অঞ্চল’ হিসেবে দাবি করে একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনার পর রবিবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আমেরিকা তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি বন্ধই রাখা হবে।

ট্রাম্পের দাবি ও ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া:
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই নিয়ে দু’বার একই ছবি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। এর আগে ১৪ আগস্ট লং আইল্যান্ডের পুলিশ আকাদেমির সমাবেশেও তিনি হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছিলেন। ওয়াশিংটনের এই দাবি সরাসরি এবং কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকার অক্ষমতা এবং এর মালিকানার দাবি অযৌক্তিক। পারস্য উপসাগরে ‘আমেরিকা-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা’ (post-American order)-র কথা উল্লেখ করে তেহরান তাদের অনড় অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে।

অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক প্রভাব:
এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই মার্কিন পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং “অতিরিক্ত-আঞ্চলিক কর্তৃত্ব” জাহির করার প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই অচলাবস্থা কাটাতে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তেহরানের জাতীয় শক্তি ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। কৌশলগত এই নৌপথকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হতে থাকা এই সংকট এখন আন্তর্জাতিক মহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ আপডেট: আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ে এই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও তার বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট করে জানান আপনার প্রতিক্রিয়া।

Aditi Banik
  • Aditi Banik