‘হয় এবার, নয় নেভার’! শূন্য থেকে সংখ্যায় ফিরতে মরিয়া বামেরা, যুবশক্তিতেই কি ঘুরবে লাল পতাকার ভাগ্য?

CPIM-এর মরণ-বাঁচন লড়াই: লক্ষ্য ২০২৬ বিধানসভা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে একসময়কার অপ্রতিরোধ্য বামফ্রন্ট এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। গত বিধানসভা নির্বাচনে ‘শূন্য’ হাতে ফেরার পর, ২০২৬-এর নির্বাচনকে বামেরা দেখছে ‘হয় এবার, নয় নেভার’ পরিস্থিতি হিসেবে। আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সূত্রে খবর, এবারের নির্বাচনে বামেদের প্রধান বাজি হলো ‘সচেতন’ যুবসমাজ এবং অত্যন্ত হিসেবি একটি নির্বাচনী জোট। গত কয়েক বছরের ছাত্র-যুব আন্দোলনকে হাতিয়ার করেই বিধানসভায় খাতা খুলতে মরিয়া লাল শিবির।

যুবসমাজের ওপর অগাধ ভরসা: বিগত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ভোট শতাংশ কিছুটা বাড়লেও আসন সংখ্যায় তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তবে সিপিআইএম (CPIM) নেতৃত্বের দাবি, শিক্ষিত এবং সচেতন যুব সমাজের একটি বড় অংশ এখন বামপন্থার দিকে ঝুঁকছে। কর্মসংস্থানের অভাব এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াকু মুখ হিসেবে দীপ্সিতা ধর, সৃজন ভট্টাচার্য বা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মতো তরুণ তুর্কিদের সামনের সারিতে রেখে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছে দল।

হিসেবি জোট ও রণকৌশল: শুধুমাত্র আবেগ নয়, এবার পাটিগণিতের হিসেবেও জোর দিচ্ছে বামফ্রন্ট। তৃণমূল ও বিজেপির বিরোধী ভোটকে একছাতার তলায় আনতে সমমনস্ক দলগুলির সঙ্গে ‘হিসেবি’ জোট গড়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে গতবারের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে আরও সচেতন আলিমুদ্দিন। দলের একাংশের মতে, নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন করে জোটের ভোট ঠিকমতো ট্রান্সফার করাই হবে আসল চ্যালেঞ্জ।

শূন্য থেকে সংখ্যায় ফেরার স্বপ্ন: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বামেদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের হারানো জনভিত্তি ফিরে পাওয়া। একদিকে তৃণমূলের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প আর অন্যদিকে বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতির মাঝে বামপন্থা কতটা জায়গা করে নিতে পারে, সেটাই দেখার। তবে সিপিআইএম নেতৃত্ব আত্মবিশ্বাসী যে, এবার বিধানসভায় লাল পতাকা ফিরবেই।