হঠাৎ কেঁপে উঠল আপনার ফোন? তীব্র সাইরেনে দেশজুড়ে আতঙ্ক! জানুন কী ঘটেছিল আজ সকালে

শনিবার বেলা ঠিক ১১:৪২ মিনিট। আচমকাই ভারতের কোটি কোটি মানুষের স্মার্টফোন একসাথে কেঁপে উঠল। শুধু কম্পন নয়, সেই সাথে বেজে উঠল এক তীব্র এসওএস (SOS) সাইরেন। যারা তখন ব্যস্ত রাস্তায় বা অফিসে ছিলেন, মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ালেন সবাই। মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে উঠল হিন্দি এবং ইংরেজিতে লেখা একটি রহস্যময় মেসেজ। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা হ্যাকিং নয়—এটি আসলে আপনার নিরাপত্তার জন্য ভারত সরকারের এক যুগান্তকারী পরীক্ষা।

কী ছিল সেই বার্তায়?
ভারত সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রকের অধীনস্থ টেলিযোগাযোগ বিভাগ (DoT) এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDMA) যৌথভাবে এই পরীক্ষা চালিয়েছে। মেসেজটিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এটি একটি ‘সেল ব্রডকাস্ট সিস্টেম’-এর পরীক্ষামূলক পর্যায়। উদ্দেশ্য হলো, ভবিষ্যতে কোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি অবস্থার সময় নাগরিকদের দ্রুত এবং সরাসরি সতর্ক করা।

সি-ডট (C-DOT)-এর তৈরি দেশীয় প্রযুক্তি:
এই পুরো ব্যবস্থাটি তৈরি করেছে ভারতের নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র ‘সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ টেলিম্যাটিক্স’ (C-DOT)। রাষ্ট্রসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (ITU) সুপারিশ মেনে ‘কমন অ্যালার্টিং প্রোটোকল’ (CAP) ভিত্তিক এই সিস্টেমটি তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধেই ভারতের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই পরিষেবা সক্রিয় করা হয়েছে।

কেন এই ‘সেল ব্রডকাস্ট’ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ?
সাধারণ এসএমএস-এর তুলনায় ‘সেল ব্রডকাস্ট’ অনেক বেশি কার্যকরী। এটি নেটওয়ার্ক জ্যাম থাকলেও নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার সমস্ত মোবাইলে চোখের পলকে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে পারে। ইতিমধেই ঘূর্ণিঝড় বা বজ্রপাতের মতো দুর্যোগের সময় ১৯টিরও বেশি ভাষায় ১৩৪ বিলিয়নেরও বেশি এসএমএস সতর্কতা পাঠানো হয়েছে। ‘স্যাচেট’ (SACHET) নামক এই ইন্টিগ্রেটেড অ্যালার্ট সিস্টেমটি এখন আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

আপনার ফোনে আজ আসা সেই বিকট শব্দের মেসেজটি আসলে প্রমাণ করল যে, দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারত এখন প্রযুক্তির দিক থেকে কতটা স্বনির্ভর। ভবিষ্যতে ভূমিকম্প, সুনামি বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিপদের খবর আপনার কাছে পৌঁছাবে সেকেন্ডের মধ্যে, যা রক্ষা করতে পারে লক্ষ লক্ষ প্রাণ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy