হঠাত্ বন্ধ মেট্রো গেট! কোন বড় বিপদের আশঙ্কায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ ডিএমআরসি-র?

নিরাপত্তাজনিত চরম কড়া পদক্ষেপ হিসেবে শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে দিল্লির মোট ১৭টি মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন বা ডিএমআরসি। পরবর্তী কোনো নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে সাধারণ যাত্রীদের প্রবেশ এবং প্রস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজধানী জুড়ে চলা বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থেকেই এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।

যে সমস্ত জনবহুল ও সংবেদনশীল মেট্রো স্টেশনগুলি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে, তার দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ, শিবাজি স্টেডিয়াম এবং ঝান্ডেওয়ালান। তবে যাত্রীদের সাময়িক স্বস্তি দিতে ডিএমআরসি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এই তিনটি প্রধান স্টেশনে শুধুমাত্র যাত্রীরা ট্রেন পরিবর্তন বা ইন্টারচেঞ্জের সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ এই স্টেশনগুলিতে বসে অন্য রুটের ট্রেন ধরা গেলেও বাইরে বের হওয়ার কোনো অনুমতি থাকছে না।

পরিস্থিতির ব্যাপক গুরুত্ব বুঝে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিকল্প রুট বা পথ ব্যবহার করার কড়া পরামর্শ দিয়েছে। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে খুব শীঘ্রই পরবর্তী নির্দেশিকা জারি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, সিজেপি-র সাম্প্রতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবারও একই মেট্রো স্টেশনগুলি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রাখা হয়েছিল। যার ফলে মধ্য দিল্লির ব্যস্ত রাজপথ এবং মেট্রো চত্বরে অফিসগামী মানুষ, পরীক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার টানা প্রায় চোদ্দো ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অবশেষে সন্ধ্যা নাগাদ সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, মান্ডি হাউস ও রাজীব চকের মতো মাত্র তিনটি স্টেশনের প্রবেশপথ আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছিল, যদিও বাকি স্টেশনগুলি বন্ধই রাখা হয়। যার জেরে তীব্র যানজটের কবলে পড়ে বহু যাত্রীকে আকস্মিকভাবে তাঁদের প্রতিদিনের যাতায়াতের রুট পরিবর্তন করতে হয় এবং বাধ্য হয়ে সড়কপথের পরিবহনের ওপর ভরসা রাখতে হয়। এর আগে গত সোমবারও অনুরূপ প্রতিবাদের জেরে নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজধানীর মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল।