হজের নামে প্রতারণা ও বেআইনি ব্যবসা? তরুণকে হাত-পা বেঁধে খুনের ঘটনায় উত্তাল এলাকা

হজে গিয়ে দীর্ঘদিন নিখোঁজ বাবা-মা। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সুদূর সৌদি আরব থেকে তাঁরা ফিরে না আসায় উদ্বেগ ছড়িয়েছিল পরিবারে। শেষ পর্যন্ত সেই বাবা-মায়ের সন্ধান চাইতে গিয়েই চরম নির্মম পরিণতির শিকার হতে হলো এক যুবককে। ট্যুর অপারেটর তথা মাদ্রাসার মৌলানার বিরুদ্ধে সেই তরুণকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে খুন করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার ধানওয়ার থানা এলাকায়। মর্মান্তিক এই ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র অঞ্চলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম হায়দার আনসারি (২৬)। তিনি গিরিডির হেরোডি থানা এলাকার চারঘড়ার বাসিন্দা ছিলেন। খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মৌলানা ইলিয়াস আনসারিসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

হজের চুক্তি ও রহস্যজনক নিখোঁজ পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৪ অক্টোবর স্থানীয় এক মাদ্রাসার মৌলানা ইলিয়াস আনসারির মারফত সৌদি আরবে হজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন হায়দারের বাবা ও মা। এই ট্যুর পরিচালনার বিনিময়ে ইলিয়াসকে ৩০,০০০ টাকাও দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী হজ পর্ব মিটিয়ে গত ২৪ অক্টোবর তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও বাবা-মা বাড়ি না ফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়েন হায়দার।

বচসা ও থানায় অভিযোগের হুমকি বাবা-মায়ের বিষয়ে জানতে গত কয়েক দিনে একাধিক বার অভিযুক্ত মৌলানার মাদ্রাসায় চক্কর কাটেন হায়দার। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি। এরপর গত ৫ নভেম্বর ফের মাদ্রাসায় গিয়ে ইলিয়াসের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেই সময় দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। বাবা-মা কোথায় ও কেমন আছেন, সে বিষয়ে ইলিয়াস কোনো স্পষ্ট তথ্য না দেওয়ায় হায়দার সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি এই নিয়ে সোজা পুলিশের দ্বারস্থ হবেন।

রাস্তায় ছেঁকে ধরে বেধড়ক মারধর ও খুন অভিযোগ, থানা-পুলিশের হুমকির কথা শুনেই খেপে যান ওই মৌলানা। সেদিন মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে হায়দার যখন একা বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক সেই সময় ধানওয়ার থানার খড়িমহুয়া মসজিদের কাছে তাঁর পথ আটকায় অভিযুক্ত মৌলানা ও তাঁর সঙ্গীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগকারীদের দাবি, রাস্তায় হায়দারের হাত-পা চেপে ধরে বেধড়ক মারধর শুরু করে ইলিয়াস ও তার দলবল। চরম অত্যাচারের পর শেষ পর্যন্ত শ্বাসরোধ করে হায়দারকে খুন করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তরুণ নিথর দেহ রাস্তায় ফেলে রেখেই চম্পট দেয় অভিযুক্তরা।

পুলিশি পদক্ষেপ ও অভিযুক্তদের তালিকা এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মৃত হায়দারের ভাই পারভেজ আনসারি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মৌলানা ইলিয়াস আনসারি ছাড়াও সানাউল্লাহ আনসারি, আফজল আনসারি, আবিদ আনসারি, আসাদ আনসারি, আদনান আনসারি, নাসিদ আনসারি ও বাবা ইসলাম-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি, মৌলানা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ট্রাভেল এজেন্সি বা হজের নামে বেআইনি ব্যবসা চালানোর মারাত্মক অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা গা-ঢাকা দেওয়ায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। খুব শীঘ্রই অপরাধীদের জালে তোলা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।