অবসরে কোটিপতি হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ! কোন ব্যাঙ্কে মিলছে ৮.৬০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ?

অবসরকালীন জমানো টাকা কোথায় সুরক্ষিত রাখবে এবং কোথায় মিলবে সবচেয়ে বেশি মুনাফা—এই প্রশ্নটি প্রতিটি মধ্যবিত্ত প্রবীণ নাগরিকের মনেই ঘুরেফিরে আসে। আর সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি (Fixed Deposit)-এর সুদের হারে বড়সড় পরিবর্তন আনল দেশের একাধিক শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ও স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্ক। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে ব্যাঙ্কগুলি একগুচ্ছ আকর্ষণীয় সুদের অফার ঘোষণা করেছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানের এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কয়েকটি স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের জন্য ৮.৬০ শতাংশ পর্যন্ত সুদের হার অফার করছে, যা প্রবীণ নাগরিকদের নিশ্চিত ও নিয়মিত আয়ের উৎসকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। অন্যদিকে, দেশের প্রথম সারির বেসরকারি ও সরকারি ব্যাঙ্ক যেমন এইচডিএফসি (HDFC), আইসিআইসিআই (ICICI) এবং পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB)-ও আকর্ষণীয় সুদের হার নিয়ে ময়দানে রয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রকাশিত সুদের হারের তালিকা অনুযায়ী, প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন ব্যাঙ্কে সর্বোচ্চ সুদের হার ভিন্ন ভিন্ন স্তরে রয়েছে। তালিকায় শীর্ষে থাকা সূর্যোদয় স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্ক (Suryoday Small Finance Bank) প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৮.৬০ শতাংশ হারে সুদ প্রদান করছে। ঠিক তার পরেই রয়েছে উৎকর্ষ স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্ক (Utkarsh Small Finance Bank), যেখানে সুদের হার ৮.৫০ শতাংশ পর্যন্ত মিলছে। অন্যদিকে, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্কে সুদের হার রয়েছে ৭.৫৫ শতাংশ, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কে ৭.৩৫ শতাংশ এবং এইচডিএফসি ও আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কে সর্বোচ্চ ৭.২০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে (PNB) এই হার রয়েছে ৭.১০ শতাংশ।

দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাঙ্ক HDFC চলতি মাসের শুরু থেকেই এফডি-র সুদের হারে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নির্বাচিত মেয়াদের আমানতের ওপর সর্বোচ্চ ০.৫০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ৩ বছর ১ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত মেয়াদের এফডি-তে প্রবীণ নাগরিকরা সর্বোচ্চ ৭.২০ শতাংশ পর্যন্ত আকর্ষণীয় সুদ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একইভাবে, ICICI ব্যাঙ্কেও ৩ বছর ১ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত মেয়াদের ফিক্সড ডিপোজিটে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৭.২০ শতাংশ সুদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, পিএনবি (PNB)-এর বিশেষ ৪৪৪ দিনের এফডি স্কিমে প্রবীণরা সর্বোচ্চ ৭.১০ শতাংশ হারে সুদ লাভ করছেন।

ব্যাঙ্কের এই নতুন সুদের হারের ফলে বিনিয়োগকারীরা ঠিক কত টাকা লাভ করতে পারেন, তার একটি স্পষ্ট হিসাবও সামনে এসেছে। ধরুন, কোনো প্রবীণ নাগরিক যদি ৫ লক্ষ টাকা ফিক্সড ডিপোজিটে বিনিয়োগ করেন, তবে ৮.৬০ শতাংশ সুদের হারে তাঁর বছরে আনুমানিক প্রায় ৪৩,০০০ টাকা আয় হতে পারে। অন্যদিকে, ৭.২০ শতাংশ সুদের হারে সেই আয় দাঁড়াবে প্রায় ৩৬,০০০ টাকায়। অর্থাৎ, সুদের হারের সামান্য পার্থক্যের কারণে বছরে প্রায় ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত লাভ করা সম্ভব। একইভাবে, যদি কেউ ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তবে ৮.৬০ শতাংশ সুদের হারে বছরে প্রায় ৮৬,০০০ টাকা এবং ৭.২০ শতাংশ হারে প্রায় ৭২,০০০ টাকা পর্যন্ত সুদ পাওয়া যেতে পারে, যা বার্ষিক ১৪,০০০ টাকার স্পষ্ট পার্থক্য গড়ে দেয়।

তবে শুধুমাত্র বেশি সুদের হার দেখে অন্ধের মতো বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা কখনই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অধীনস্থ ডিআইসিজিসি (DICGC)-র নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো একটি ব্যাংকে একজন আমানতকারীর যোগ্য আমানতের ওপর সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা সুরক্ষার নিশ্চয়তা থাকে, যার মধ্যে মূলধন ও সুদ দুটোই অন্তর্ভুক্ত। তাই বড় অংকের সঞ্চয় কোনো নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কে জমা রাখার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক স্বাস্থ্য, লক-ইন পিরিয়ড, প্রি-ম্যাচিউর উইথড্রয়াল বা প্রারম্ভিক টাকা তোলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য জরিমানা এবং সুদের ওপর ধার্য করের নিয়মকানুনগুলি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে নেওয়া উচিত।