নায়ক থেকে সোজা খলনায়ক! ‘রামায়ণ’-এ রাবণ হয়েই কি কেরিয়ারের সবথেকে বড় ঝুঁকি নিলেন যশ?

নীতীশ তিওয়ারি পরিচালিত বহু প্রতীক্ষিত পৌরাণিক ড্রামা ‘রামায়ণ’ মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী ১৫৫ কোটি টাকার অভাবনীয় ব্যবসা করে সিনেমাটি যেমন সমালোচকদের নজর কেড়েছে, তেমনই দর্শকদের মনেও গভীর ছাপ ফেলেছে। ছবির এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের মাঝেই প্রকাশ্যে এসেছে ছবির নেপথ্যের একটি অজানা কাহিনি। ছবিতে খলনায়ক তথা লঙ্কাধিপতি রাবণের ভূমিকায় অভিনয় করা জনপ্রিয় অভিনেতা যশ কীভাবে এই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রটি বেছে নিয়েছিলেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উন্মাদনা। যেখানে বন্ধু ও পরিবারের বারণ সত্ত্বেও কেবল গল্পের টানেই এই বিশাল ঝুঁকি নিতে পিছপা হননি তিনি।
ছবির নির্মাতাদের প্রকাশিত নেপথ্যের এক বিশেষ ভিডিয়োতে অভিনেতা যশ নিজেই শেয়ার করেছেন তাঁর মনের নানা অজানা কথা। তিনি জানান, যখন তিনি রাবণের মতো একটি নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁর বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বারবার প্রশ্ন করেছিলেন। মানুষের মনে একটা সাধারণ ধারণাই থাকে যে, একজন জনপ্রিয় ও সফল তারকা যখন রোম্যান্টিক বা হিরোসুলভ চরিত্রে পরিচিত হন, তখন হঠাৎ করে তাঁকে পর্দায় এমন কোনো চরিত্রে দেখা কঠিন, যাকে দর্শক মূলত ঘৃণা করে। যশকে তাঁর শুভানুধ্যায়ীরাও এই মর্মে সতর্ক করেছিলেন যে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত তাঁর স্টারডামের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে কিনা। কিন্তু সমস্ত শঙ্কাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যশ জানান যে, তাঁর কাছে তারকাখ্যাতির চেয়ে মহাকাব্যের গুরুত্ব অনেক বেশি।
ভিডিয়োতে যশ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “সবাই আমাকে জিজ্ঞেস করত, তুমি কেন রাবণের মতো চরিত্রে অভিনয় করতে চাও? কিন্তু আমি পরিষ্কার বুঝেছিলাম, দিনশেষে এই মহাকাব্যের বা রামায়ণের চেয়ে বড় কেউ হতে পারে না।” তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, রাবণকে কেবল একজন সাধারণ খলনায়ক বা ভিলেন হিসেবে দেখলে চলবে না। রামকে যদি মানুষের ‘হৃদয়’ হিসেবে দেখা হয়, তবে রাবণ হলেন তার ‘মস্তিষ্ক’। আর মানুষের মনস্তত্ত্বে সবসময়ই হৃদয় ও মস্তিষ্কের একটা অন্তর্দ্বন্দ্ব থাকে। সেই গভীর মনস্তাত্ত্বিক দিকটি ফুটিয়ে তোলার জন্যই তিনি এই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নেন। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে অভিনেতা জানান যে, প্রথমবার কস্টিউম এবং মাথার বিশেষ মুকুটটি পরার পরেই তিনি যেন পুরোপুরি রাবণের চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন।
ছবির পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি এবং সহ-অভিনেতা রণবীর কাপুরও যশের এই সাহসিকতা ও অনবদ্য অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। রণবীর জানিয়েছেন, রাবণের মতো একটি শক্তিশালী ও প্রতাপশালী চরিত্রের জন্য পর্দায় এমন একজন অভিনেতা প্রয়োজন ছিল যাঁর ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত প্রবল এবং উপস্থিতি জোরালো। আর যশ সেই চরিত্রটিকে এক সম্পূর্ণ নতুন ও জটিল মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি যশ তাঁর নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশন্স’-এর মাধ্যমে এই প্রজেক্টের একজন সহ-প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন। এর আগে তাঁর অভিনীত ‘টক্সিক’ ছবি বক্সঅফিসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও, ‘রামায়ণ’-এর মতো মেগা বাজেটের ছবিতে খলনায়কের ভূমিকায় তাঁর এই এন্ট্রি কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলেই মনে করছে চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ মহল।