কাশ্মীরে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে! ২৫ বিধায়কের অলটিমেটামে বিপাকে ওমর সরকার

জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক অলিন্দে প্রচলিত একটি জনপ্রিয় প্রবাদ রয়েছে— চিনার গাছের পাতায় বরফের আনাগোনা শুরু হলেই উপত্যকার রাজনীতিও নতুন রঙে রাঙিয়ে ওঠে। চলতি বছরেও তার ব্যতিক্রম ঘটল না। কাশ্মীরে বরফ পড়ার সূচনা হতেই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কনফারেন্স (NC) জোট সরকার গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে বলে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছে। দলীয় বিধায়কদের নজিরবিহীন অসন্তোষের মুখে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ছেলের কুর্সি ও দল বাঁচাতে এবার সরাসরি ময়দানে নামতে হয়েছে ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাকে।
২৫ বিধায়কের ইস্তফার হুঁশিয়ারি ও ফারুকের ড্যামেজ কন্ট্রোলসূত্রের খবর, এনসি-র ২৫ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁদের দাবি— উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাসির আসলাম ওয়ানিকে (নাগির সৌগমী) অবিলম্বে পদ থেকে সরাতে হবে। পাশাপাশি দু’বছরের বেশি সময় ধরে যাঁরা মন্ত্রিত্ব করছেন, তাঁদের বদলে নতুন মুখ আনার এবং দুর্নীতিতে অভিযুক্ত দলীয় নেতা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার দাবি তোলা হয়েছে।
সংকট ঘনীভূত হতেই শুক্রবার শ্রীনগরের বাসভবনে বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নিয়ে এক দীর্ঘ বৈঠকে বসেন ফারুক আবদুল্লা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও। ফারুক বিধায়কদের সমস্ত অভিযোগ শোনার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। বৈঠক শেষে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করে ফারুক বলেন, “ন্যাশনাল কনফারেন্স কখনওই ভাঙবে না। আমি নিজে বিধায়কদের ক্ষোভ ও অভিযোগ শুনেছি, খুব শীঘ্রই সেগুলোর সমাধান করা হবে।”
অনড় বিক্ষুব্ধরা: বিকল্প পথের ইঙ্গিত ফারুক আবদুল্লার আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও নিজেদের অবস্থান থেকে নড়তে নারাজ বিক্ষুব্ধ শিবির। তাঁদের অন্যতম প্রধান মুখ নাজির গুরেজি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “আমরা দলীয় নেতৃত্বকে আমাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছি। পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হলেও দাবি পূরণ না হলে আমরা বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হব।” জানা গিয়েছে, ৩০ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে এই ২৫ বিধায়ক অন্তত পাঁচটি গোপন বৈঠক করেছেন। রাজনৈতিক মহলে জোরালো গুঞ্জন, জম্মু-কাশ্মীরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিজেপির এক প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতার পরোক্ষ ব্যাকআপেই এই বিদ্রোহ পরিচালিত হচ্ছে।
সংখ্যাগাণিতিক সমীকরণ: বিপদের মুখে ওমর সরকার শ্রীনগরের এনসি সংসদ সদস্য আগা রুহুল্লাহ মেহদি ইতিমধ্যেই নিজের পদে ইস্তফা দিয়েছেন। এর ওপর যদি এই ২৫ জন বিধায়ক ইস্তফা দেন, তবে ওমরের সরকার টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
মোট আসন সংখ্যা: ৯৫টি (৯০টি নির্বাচিত এবং ৫টি মনোনীত— যার সবকটিই বর্তমানে খালি)।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুদণ্ড: ৪৬টি আসন।
বর্তমান এনসি জোটের শক্তি: ৫৩টি আসন।
যদি ২৫ জন বিধায়ক ইস্তফা দিয়ে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন, তবে শাসক জোটের আসন সংখ্যা এক ধাক্কায় নেমে আসবে ২৮-এ, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার অর্ধেকেরও কম। ফলে উপত্যকায় ওমর আবদুল্লার নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পতন কার্যত সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।