কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্য থেকেও মিলবে মোটা টাকা! বাংলার ৪৬ লক্ষ কৃষকের জন্য মেগা প্রকল্পের সূচনা

বাংলার অন্নদাতাদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে এবং তাঁদের হাতে আরও বেশি সাহায্য পৌঁছে দিতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার হুগলির ঐতিহাসিক পুরশুড়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি’ প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের এই নতুন মেগা প্রকল্পের ফলে একলাফে উপকৃত হবেন বাংলার প্রায় ৪৬ লক্ষ ৪৬ হাজার প্রান্তিক কৃষক। এর জেরে উৎসবের মরসুমেই রাজ্যের কৃষকদের মুখে খুশির চওড়া হাসি ফুটেছে।
মূলত কেন্দ্রের প্রচলিত ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’ (PM-KISAN) প্রকল্পের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে রাজ্য। এতদিন ধরে কেন্দ্র সরকারের এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি কৃষক বার্ষিক ৬ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য পেতেন। তবে এবার থেকে বাংলার কৃষকরা কেন্দ্রের সেই ৬ হাজার টাকার সঙ্গে রাজ্যের তরফ থেকে আরও অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা করে বার্ষিক সহায়তা লাভ করবেন। ফলে সবমিলিয়ে বার্ষিক অনুদানের পরিমাণ বেড়ে সোজা ৯ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকবে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় পিএম কিষাণ যোজনার নিয়মানুযায়ী কৃষকদের বছরে তিনটি আলাদা কিস্তিতে মোট ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, নতুন চালু হওয়া ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি’ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্য সরকারও বার্ষিক তিনটি কিস্তিতে মোট ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। অর্থাৎ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সম্মিলিত অনুদানে বাংলার কৃষকরা এখন থেকে প্রতি বছর মোট ৯ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা হিসেবে সরাসরি নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন যে, বাংলার কৃষকরা ইতিমধ্যেই পিএম কিষাণ যোজনার ২৩তম এবং ২৪তম কিস্তির টাকা হাতে পেয়ে গেছেন। সেই কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন মোট ২ হাজার টাকা অর্থাৎ একসঙ্গে দুটি কিস্তির বকেয়া টাকা সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কেন্দ্রের তরফে যখন পিএম কিষাণ যোজনার পরবর্তী কিস্তি প্রদান করা হবে, ঠিক তখনই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও তাদের নির্দিষ্ট ১ হাজার টাকার অংশটি ট্রান্সফার করে দেওয়া হবে।
সবমিলিয়ে বাংলার কৃষি সমাজ ও গ্রামীণ অর্থনীতির পরিকাঠামোকে চাঙ্গা করতে রাজ্য সরকারের এই নতুন প্রকল্প এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। উৎসবের মরসুমে এই আর্থিক সহায়তা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কৃষিজীবী পরিবারকে অনেকটাই স্বস্তি দেবে এবং তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।