“স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া স্বাভাবিক ঘটনা!” আত্মহত্যার দায়ে স্ত্রীকে ফাঁসানো যাবে না, সাফ জানাল উচ্চ আদালত!

স্বামী-স্ত্রীর সাধারণ ঝগড়া বা মনোমালিন্যকে কখনোই ‘আত্মহত্যার প্ররোচনা’ হিসেবে গণ্য করা যায় না। মহারাষ্ট্রের এক ব্যক্তির আত্মহত্যার মামলায় তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা খারিজ করে দিয়ে এই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ দিল বম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, দাম্পত্য জীবনে কলহ একটি সাধারণ বিষয় এবং এর জন্য কোনো সঙ্গীর ওপর আত্মহত্যার দায় চাপানো যায় না।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ:

২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন এক ব্যক্তি। এর পরেই নিহতের বাবা তাঁর পুত্রবধূর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ ছিল:

  • স্ত্রী তুচ্ছ বিষয়ে ঝগড়া করতেন এবং গালিগালাজ করতেন।

  • স্বামীকে না জানিয়েই বারবার বাপের বাড়ি চলে যেতেন।

  • স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর এবং নিজেও আত্মহত্যা করার হুমকি দিতেন।

  • এমনকি ওই মহিলার অন্য পুরুষের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ:

অভিযুক্ত ৪৯ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে বিচারপতি উর্মিলা জোশী ফালকের একক বেঞ্চ মামলাটি খতিয়ে দেখে। আদালত জানায়:

“দাম্পত্য জীবনে কলহ বা মতপার্থক্য অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। অভিযুক্তের মনে যদি কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য না থাকে, তবে স্রেফ রাগের মাথায় বলা কথা বা দুর্ব্যবহারকে আত্মহত্যার প্ররোচনা বলা সম্ভব নয়।”

আইনি ব্যাখ্যা: কখন হবে প্ররোচনা?

হাইকোর্ট তার রায়ে প্ররোচনার (Abetment) সংজ্ঞা স্পষ্ট করে দিয়েছে। আদালতের মতে: ১. অভিযুক্তকে অবশ্যই ভুক্তভোগীকে মৃত্যুর পথ বেছে নেওয়ার জন্য সরাসরি উস্কানি দিতে হবে। ২. আত্মহত্যার পেছনে অভিযুক্তের কোনো সক্রিয় ষড়যন্ত্র বা ভূমিকা থাকতে হবে। ৩. নিছক হতাশা সৃষ্টি করা মানেই প্ররোচনা দেওয়া নয়।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ওই ব্যক্তি আত্মহত্যার আগে যে চিরকুটটি রেখে গিয়েছিলেন, সেখানে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল যে—তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। এই তথ্যটি খতিয়ে দেখে আদালত অভিযুক্ত স্ত্রীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy