স্বাধীনতা দিবসে মোদীর সাজে চমক! লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর কোন বিশেষ পাগড়ি নিয়ে শুরু হল চর্চা?

স্বাধীনতা দিবসের সকালে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবারের মতো এবারও নিজের ঐতিহ্যবাহী ও নজরকাড়া পোশাকের মাধ্যমে সকলের নজর কেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চলতি বছর তাঁর এই বিশেষ সাজ এবং পোশাকের প্রতিটি উপাদানের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতির গভীর মেলবন্ধন, যা ইতিমধ্যেই সর্বস্তরে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এবারের ঐতিহাসিক দিনে প্রধানমন্ত্রীর মাথা শোভা পেয়েছে একটি আকর্ষণীয় লাল রঙের টাই-ডাই পাগড়ি, যা মূলত রাজস্থান এবং গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন। এই বিশেষ পাগড়ির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি বেছে নিয়েছিলেন একটি পরিপাটি সাদা কুর্তা এবং তার উপর মানানসই বাদামি রঙের একটি ভেস্ট বা জ্যাকেট। পোশাকের এই সাধারণ অথচ আভিজাত্যপূর্ণ বিন্যাসকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছিল তাঁর পোশাকে থাকা একটি বিশেষ পকেট স্কোয়ার। গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙের সংমিশ্রণে তৈরি এই পকেট স্কোয়ার সরাসরি জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান ও দেশাত্মবোধের গভীর বার্তা ফুটিয়ে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই পাগড়িতে ব্যবহৃত হয়েছে প্রখ্যাত ‘বান্ধেজ’ কৌশল। এটি রাজস্থানের অত্যন্ত প্রাচীন ও বিখ্যাত এক ধরনের টাই-অ্যান্ড-ডাই বস্ত্রশিল্প, যেখানে কাপড়ের বিভিন্ন অংশ নির্দিষ্ট সুতো দিয়ে বেঁধে রঙিন করে অত্যন্ত জটিল ও সুন্দর নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকলার পেলেটটিতে সাধারণত লাল, হলুদ, সবুজ এবং জাফরান রঙের চমৎকার ব্যবহার দেখা যায়, যা বহু প্রজন্ম ধরে ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে রয়েছে। রাজস্থানি সংস্কৃতিতে ‘সাফা’ বা পাগড়ি কেবল একটি সাধারণ পরিধেয় নয়, বরং এটি সম্মান, আত্মমর্যাদা, আভিজাত্য এবং ঐতিহ্যগত পরিচয়ের এক অন্যতম প্রধান প্রতীক।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রথমবার স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে যোধপুরি বান্ধেজের সাফা পরিধান করার পর থেকেই প্রতি বছরই ভিন্ন রঙের ও ভিন্ন ডিজাইনের পাগড়িতে লালকেল্লায় ধরা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কখনও লেহেরিয়া প্রিন্ট আবার কখনও বিশেষ এই শৈলী তাঁর ফ্যাশন ও ঐতিহ্যপ্রীতির এক অনন্য স্বাক্ষর হয়ে উঠেছে। কোভিড মহামারীর সময়কার বিশেষ মাস্ক থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের এই ঐতিহ্যবাহী সাজ—সব মিলিয়ে এই পাগড়ি এখন নরেন্দ্র মোদীর এক অবিচ্ছেদ্য এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘সিগনেচার স্টাইল’-এ পরিণত হয়েছে, যা প্রতিবারই দেশবাসীকে নতুন কিছু উপহার দেয়।