স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিতে বড় লক্ষ্য! ক্রীড়াজগতে ভারতের মুকুটে নতুন পালক যুক্ত করার হুঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর

আজ দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক উদযাপনের অংশ হিসেবে দিল্লির লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চলতি বছরের এই লালকেল্লার ভাষণটি ছিল তাঁর টানা ১৩তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ। দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরার পাশাপাশি খেলাধুলার জগতেও ভারতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার এক বিরাট রূপরেখা ঘোষণা করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, ভারত শুধুমাত্র খেলাধুলার বৃহত্তর পরিসরই তৈরি করছে না, বরং ২০৩০ সালে কমনওয়েলথ গেমস সফলভাবে আয়োজন করার পর দেশের মূল লক্ষ্য হতে চলেছে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক্স গেমস আয়োজন করা।
ভাষণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে ভারত বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এর আগে তিনি নিশ্চিত করেন যে খেলাধুলার ময়দানেও ভারত তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর মতে, অতীতে এমন বহু খেলা ছিল যেখানে ভারতের খেলোয়াড়েরা অংশই নিত না কিংবা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও অর্জন করতে পারত না। কিন্তু সেই দিন এবার বদলাতে চলেছে। মোদীর সুদূরপ্রসারী চিন্তা হলো, ২০৩৬ সালের অলিম্পিক্সে যাতে দেশের যুবসমাজ সেই সমস্ত অপরিচিত বা অপ্রচলিত খেলাগুলোতেও সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং পদক জয় করে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারে।
এই লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে এক অভিনব এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাত্র ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সের শিশুদের চিহ্নিত করে একটি বিশেষ ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ বা প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। এই শিশু প্রতিভাদের খুঁজে এনে অলিম্পিক্সের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য সুনির্দিষ্ট ও কঠোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে ভারত বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হতে পারে। দেশের যুবশক্তির প্রতি নিজের অগাধ বিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মোদী বলেন যে, দেশের তরুণ সমাজ, মা-বোন, কৃষক এবং শ্রমিকদের অদম্য শক্তির উপর তাঁর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। একটি ‘বিকশিত ভারত’ বা উন্নত ভারতের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে সংস্কারের গতিকেও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে হবে বলে তিনি জোরালো সওয়াল করেন।
উল্লেখ্য, এবারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে বেশ কিছু নতুন ঐতিহ্য ও বর্ণাঢ্য পরিবেশনা লক্ষ্য করা গেছে। ইতিহাসের পাতায় এই প্রথমবার লালকেল্লার প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হয়েছে। পতাকা উত্তোলনের অব্যবহিত পরেই সেনার একটি সুসজ্জিত ব্যান্ডদল সুর তোলে, যা উপস্থিত সকল অতিথি ও দেশবাসী একসঙ্গে গেয়ে ওঠেন। এর পাশাপাশি এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দেশের তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর সর্বমোট ২৫০০ জন কৃতি ছাত্র ও ছাত্রী ক্যাডেট এবং ‘মাই ভারত’ পোর্টালের উৎসাহী স্বেচ্ছাসেবকরা এই জাতীয় উৎসবে যোগ দেন। তারা জ্ঞানপথের উন্মুক্ত চত্বরে বসে সুশৃঙ্খলভাবে মানব শরীর ও আলপনার মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’ শব্দটির অবয়ব ফুটিয়ে তোলেন, যা সমগ্র অনুষ্ঠানকে এক অনন্য দেশপ্রেমের আলোয় ভরিয়ে তোলে।