ঈশ্বরের রূপই জনতা! টানা ২৫ বছরের বর্ণাঢ্য শাসনকাল পূর্ণ করে দেশবাসীকে মাথা নত করে প্রণাম জানালেন নরেন্দ্র মোদি!

প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল ২৫ বছর সফলভাবে পূর্ণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম শপথ নেওয়ার দিনটিকে স্মরণ করে বুধবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি। এই বিশেষ মাইলফলক উপলক্ষে দিনটি শুরু হয়েছিল দিল্লির শ্রী বিনায়ক মন্দিরে পুজো ও প্রার্থনার মাধ্যমে, যেখানে দেশবাসীর মঙ্গল কামনার পাশাপাশি অকৃত্রিম নিষ্ঠার সাথে দেশসেবা চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প নেন তিনি। এরপর দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে এক অত্যন্ত আবেগঘন ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।
নিজের সুদীর্ঘ আড়াই দশকের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে মোদী বলেন, “২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। সেদিন ভাবিনি এই মাইলফলকে পৌঁছাব। আজ শীর্ষ প্রশাসক হিসেবে টানা ২৫ বছর জনগণের সেবা করার যে সুযোগ পেয়েছি, তা দেশবাসীর অকৃপণ আশীর্বাদেরই ফল।” এই দীর্ঘ যাত্রায় ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP), এনডিএ (NDA) জোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর আস্থা রাখা প্রতিটি নাগরিকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। সাধারণ জনতাকেই ‘ঈশ্বরের রূপ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, বিধানসভা হোক বা লোকসভা—মানুষের এই ধারাবাহিক বিশ্বাসই তাঁর এগিয়ে যাওয়ার মূল চালিকাশক্তি।
জীবনের প্রতিটি সংকট ও অভিজ্ঞতাকে পাথেয় করে এগিয়ে চলার বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার জীবনের কোনও ঘটনাই ব্যর্থ যায়নি। জীবনের প্রত্যেকটা ঘটনা শিক্ষা দিয়েছে। ভুজের ভূমিকম্প আমাকে পুনর্নির্মাণের প্রয়াস শিখিয়েছে। চন্দ্রযান অসফলতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো শিখিয়েছে। করোনা রাষ্ট্রের সাময়িক চেতনা মাহাত্ম্য বুঝিয়েছে। মিডিয়া আমাকে টক-মিষ্টি অনুভূতির মধ্যে এগিয়ে চলার প্রেরণা দিয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে প্রতিটি সফলতা তাঁর দায়িত্ববোধকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আরও বড় লক্ষ্যের দিকে এগনোর সাহস জুগিয়েছে। দেশবাসীর কাছে মাথা নত করে প্রণাম জানিয়ে তিনি তাঁর আজীবন জনসেবা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর এই রজতজয়ন্তী উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিজেপির মেগা ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। এদিন দিল্লির মূল অনুষ্ঠান ছাড়াও দেশের প্রতিটি জেলায় জায়েন্ট স্ক্রিনে প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে বর্ণাঢ্য মশাল যাত্রা ও নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদির এই সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য প্রশাসনিক যাত্রা ভারতীয় রাজনীতির মানচিত্রে এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল।