‘মানুষের ভুলের জন্যই বিপর্যয়, অস্বীকারের উপায় নেই!’ চোরবাগান কাণ্ড নিয়ে বড় স্বীকারোক্তি মুখ্যমন্ত্রীর

উৎসবের আনন্দে বিষাদের ছায়া ফেলা চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনায় এবার সরাসরি মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে মানবীয় ত্রুটির সম্ভাবনা জোরালোভাবে স্বীকার করে নেওয়ার পাশাপাশি এই ঘটনার সম্পূর্ণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত রিপোর্ট বিধানসভা এবং সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করার স্পষ্ট আশ্বাস দিলেন তিনি।
চলতি বছরের পুজো পরিক্রমা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে এ বছর প্রায় ৬৬ হাজার দুর্গাপুজো শান্তিপূর্ণভাবে হলেও, চোরবাগানের এই বড় দুর্ঘটনাটি পুরো উৎসবের আনন্দকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “মাত্র দেড় থেকে দু’মিনিটের মধ্যে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মানুষের ভুলের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, এই বিষয়টি অস্বীকার করার কোনো জায়গাই নেই।”
উল্লেখ্য, কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোয় সপ্তমীর সন্ধ্যায় হুড়োহুড়ি ও প্যানিক থেকে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর জেরে রাজ্যজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনার পর কলকাতা হাইকোর্টের সঙ্গে আলোচনা করে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করেছে রাজ্য সরকার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বাধীন ওই এসআইটি-তে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ও সিভিল ডিফেন্সের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজেশ সিন্হার মতো শীর্ষ আধিকারিকরা রয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট জমা দেবে, তা স্বচ্ছতার সাথে সর্বসমক্ষে আনা হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে আগামী ২৬ অক্টোবর কলকাতা, হাওড়া এবং বিধাননগরের প্রায় ৮ হাজার পুজো কমিটিকে নিয়ে বিশেষ বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে পুজোর পরিধি কিছুটা ছোট রাখা এবং প্রশাসনের এসআইটি-র সুপারিশ কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।