দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের তদন্তে নেমে রাজগঞ্জের বিডিও (Block Development Officer) প্রশান্ত বর্মনের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য সামনে নিয়ে এল বিধাননগর কমিশনারেট। পুলিশের দাবি, বিডিও-ই এই হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রান্তকারী এবং তাদের হাতে সেই ভয়ঙ্কর ভিডিয়ো ফুটেজ এসেছে, যা প্রমাণ করে খুনের আগে ব্যবসায়ীর ওপর নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়েছিল।
ভিডিয়োতে বিডিও-র নৃশংসতা:
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া ওই ভিডিয়ো ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, বিডিও প্রশান্ত বর্মন নিজেই বেল্ট ও জুতো দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার উপর নির্মম অত্যাচার চালাচ্ছেন।
-
নির্যাতনের চিহ্ন: ময়নাতদন্ত রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ব্যবসায়ীর শরীরে ৩২টি গভীর ও স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশের মতে, এটি প্রমাণ করে মৃত্যু ছিল দীর্ঘস্থায়ী ও নৃশংস নির্যাতনের ফল।
-
খুনের কারণ (প্রাথমিক): অভিযোগ, বিডিও-র বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া সোনা স্বপন কিনেছিলেন বলে তাঁকে সন্দেহ করা হয়। সেই সন্দেহে অপহরণ করে নিউটাউনের এবি ব্লকের ৬৭ নম্বর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরিকল্পনা:
তদন্তে উঠে এসেছে যে, খুনের ষড়যন্ত্র ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার দিন বিডিও দুটি গাড়ি নিয়ে দত্তাবাদে যান। তিনি দোকানের সাইনবোর্ড থেকে স্বপনের নম্বর নেন এবং এরপর প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আধার কার্ডের মাধ্যমে ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ঠিকানা সংগ্রহ করেন। সরকারি আধিকারিকের এমন অপব্যবহার প্রশাসনিক মহলে তীব্র নিন্দা সৃষ্টি করেছে।
আটকেছে আগাম জামিন ও ফ্ল্যাটের তালা:
এই মামলায় এখনও পর্যন্ত কোচবিহারের বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা সজল সরকার-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল চক্রান্তকারী বিডিও প্রশান্ত বর্মনের আগাম জামিন পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি আইনজীবীরা ভিডিয়ো ফুটেজ ও প্রযুক্তির প্রমাণ তুলে ধরে তীব্র আপত্তি জানালেও, বিডিও জামিন পেয়েছেন।
অন্যদিকে, খুনের ঘটনাটি নিউটাউনের যে ফ্ল্যাটে (হাউস নং ৬৭) ঘটেছিল, তদন্তকারীরা সেখানে তল্লাশি চালাতে পারছেন না। কারণ, ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ এবং তা শুধুমাত্র বিডিও-র হাতের ছাপেই (Fingerprint) খোলে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই গাড়িতে মোট চার থেকে ছয়জন ছিলেন। বিডিও-র সঙ্গে আর কারা ছিল এবং এর পিছনে কোনো দালাল চক্র বা আর্থিক চাপ লুকিয়ে আছে কিনা, তা জানতে বিডিওকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।