স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের অভিযোগে নাম জড়ানো, ‘দোষী প্রমাণিত হলে রাজবংশী সমাজের কলঙ্ক হবেন’, বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন বিজেপি সাংসদ

জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের অভিযোগে নাম জড়ানোর পর বারবার দাবি করেছেন যে তিনি রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ বলেই তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। এবার এই ইস্যুতে তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুললেন জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্তকুমার রায়। তাঁর স্পষ্ট দাবি, স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশান্ত বর্মন রাজবংশী সমাজের কলঙ্ক হিসেবে পরিচিত হবেন।
খুনের অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি:
- গত ২৮ অক্টোবর বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার নিউটাউন থেকে স্বপন কামিলা নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার হয়।
- দু’দিন পর ব্যবসায়ীর শ্যালক দেবাশিস কামিলা বিধাননগর দক্ষিণ থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে প্রশান্ত বর্মনের।
- এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এখনও পর্যন্ত রাজু ঢালি ও তুফান থাপা নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, প্রশান্ত বর্মন যখন কালচিনির বিডিও ছিলেন, তখন তুফান থাপা তাঁর ‘ছায়াসঙ্গী’ ছিলেন।
- পুলিশ তদন্তে নেমে প্রশান্তর কলকাতায় আসার প্রমাণও পেয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই ঘটনার সঙ্গে প্রশান্ত বর্মনের যোগ থাকতে পারে।
বিডিও প্রশান্ত বর্মনের আত্মপক্ষ সমর্থন:
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশান্ত বর্মন দাবি করেন, “ঘনিষ্ঠ বলতে আমি কিছু বুঝি না। কারণ, আমি একজন ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত আছি… আমি আগেও বলেছি একটা চক্রান্ত চলছে। ষড়যন্ত্রকারীরা পরাজিত হবেন। আমি প্রথম রাজবংশী হিসেবে প্রথম হয়েছিলাম। সেই থেকেই আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে। আমাকে পরাস্ত করতে পারেনি। আমি সৎ। আমাকে বিপদে ফেলার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি রাজবংশী বলে বাড়তি সুযোগ কোনো সময়ই নিইনি। আমার ভালো কাজ অনেকেই দেখতে পাচ্ছেন না। তাই আমাকে কীভাবে কালিমালিপ্ত করা যায়, সেই চক্রান্ত চলছে।” এছাড়া, বিডিও অফিসে না আসার অভিযোগও তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন।
বিজেপি সাংসদ জয়ন্তকুমার রায়ের কটাক্ষ:
প্রশান্ত বর্মনের ‘রাজবংশী বলে চক্রান্ত’ তত্ত্বের তীব্র সমালোচনা করেছেন জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্তকুমার রায়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন:
- “প্রশান্ত বর্মন রাজবংশী প্রথম কোনো বিডিও নন। জলপাইগুড়িতেই রাজবংশী বেশ কয়েকজন বিডিও আছে। উত্তরবঙ্গে অনেক বিডিও রয়েছেন। কেউ তাঁদের বিরুদ্ধে তো কোনো অভিযোগ ওঠে না। আপনার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ উঠছে কেন?“
- তিনি আরও বলেন, “আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ থাকে, তাহলে মিথ্যা প্রমাণিত করুন। আপনি যদি সৎ হন, তাহলে সেটা প্রমাণ হবে। সত্যি প্রমাণ করেন আমি রাজবংশী হিসেবে গর্ববোধ করব।”
- সাংসদ সতর্ক করে বলেন, “আর যদি আপনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে কিন্তু আপনি রাজবংশী সমাজের কলঙ্ক।”