স্পিড পোস্টেই গাঁজার হোম ডেলিভারি! ২১ রাজ্যে জাল বিস্তার করা মাদক চক্রের পর্দাফাঁস

ডোর টু ডোর মাদক পৌঁছে দেওয়ার এক অভিনব অথচ ভয়ংকর চক্রের পর্দাফাঁস করল হায়দ্রাবাদ পুলিশ। ইন্ডিয়া পোস্টের স্পিড পোস্ট এবং বিভিন্ন বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসকে হাতিয়ার করে দেশজুড়ে গাঁজা সরবরাহ করত এই পাচারকারী চক্র। হায়দ্রাবাদ নারকোটিকস এনফোর্সমেন্ট উইং (H-NEW)-এর তদন্তে উঠে এসেছে, এই সিন্ডিকেটটি দেশের ২১টি রাজ্যে সক্রিয়ভাবে তাদের অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছিল।
তদন্তের সূত্রপাত হয় ঝাড়খণ্ডের ইসারি বাজার পোস্ট অফিস থেকে হায়দ্রাবাদে আসা একটি সন্দেহজনক পার্সেল থেকে। এরপর ফুসরো বাজার পোস্ট অফিস থেকে পাঠানো আরও একটি পার্সেল আটক করে পুলিশ। এই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা যা জানতে পারেন, তা রীতিমতো স্তম্ভিত করার মতো। অভিযুক্তরা অত্যন্ত সুকৌশলে ওষুধ বা অন্যান্য জরুরি সামগ্রীর আড়ালে গাঁজা পাচার করছিল। আকাশপথকেও তারা এই মাদক সরবরাহের জন্য ব্যবহার করত।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ জন গ্রাহকের অর্ডার গ্রহণ করত। প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০টি পার্সেল স্পিড পোস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হতো। প্রতিটি পার্সেলে ৫০ থেকে ২৫০ গ্রাম গাঁজা থাকত, যার বাজারমূল্য ১,৫০০ থেকে ৮,০০০ টাকার মধ্যে। এই অবৈধ ব্যবসা থেকে দৈনিক প্রায় ১,০০,০০০ টাকা, মাসিক ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা এবং বার্ষিক ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করত এই চক্র। মুম্বাইয়েই এই নেটওয়ার্কের ১,০০০-এর বেশি নিয়মিত গ্রাহক রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তরা মাদকের পরিমাণ বোঝাতে ‘আম’, ‘লাঠি’ এবং ‘ফুল’-এর মতো সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করত। অবৈধ অর্থ লেনদেনের জন্য তারা একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ইউপিআই আইডি ব্যবহার করত। এমনকি মূল অভিযুক্ত সত্যম মিশ্র তার মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত ব্যবহার করেছে। এই টাকা দিয়ে সে সোনা এবং দামি গাড়ি কিনেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঝাড়খণ্ড থেকে ট্রেনে করে গাঁজা এনে শচীন মিশ্র ও সন্তোষ পণ্ডিতের বাড়িতে মজুত করা হতো এবং সেখান থেকে ছোট ছোট প্যাকেটে তা সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হতো।
এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত সত্যম মিশ্রকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া স্থানীয় দুই ক্রেতা সুশান্ত ব্যাস এবং লাড্ডুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের কাছ থেকে প্রায় ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। তবে শুভম মিশ্র (শুভম দাদা), রাহুল ঝা, শচীন মিশ্র এবং সন্তোষ পণ্ডিতসহ বেশ কয়েকজন এখনো পলাতক। পুলিশ কমিশনার ভি.সি. সজ্জনার জানিয়েছেন, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি এবং কর্ণাটকসহ ২১টি রাজ্যে তাদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে ছিল। পলাতক অভিযুক্তদের ধরতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।