স্কুলের উপর ভেঙে পড়ল বিমান, ২৭ জনের মৃত্যু, ২৫ জন শিশু! বিমান দুর্ঘটনায় কাল হল ‘মেড-ইন-চিন’

সোমবার দুপুরে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় গোটা বাংলাদেশ কেঁপে ওঠে। ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপর আচমকাই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ বায়ুসেনার একটি প্রশিক্ষণ বিমান। জানা গেছে, উড্ডয়নের মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাত অবধি উদ্ধারকাজ চলে। প্রথম আলো সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ জন শিশু। এছাড়াও, ৭৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (ISPR) জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিট নাগাদ ঢাকার কুর্মিটোলা বায়ুসেনা বিমানঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে প্রশিক্ষণ বিমানটি উড্ডয়ন করে। কিন্তু মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি পাল্টে যায় এবং বিমানটি সরাসরি স্কুলের উপর ভেঙে পড়ে। বায়ুসেনা তরফে জানানো হয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটির মডেলের নাম এফটি-৭ বিজিআই (FT-7 BGI), যা একটি চীনা যুদ্ধবিমান। ‘যান্ত্রিক গোলযোগের’ কারণেই বিমানটি আকাশে ভেসে থাকতে পারেনি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিমানটি বাংলাদেশের বায়ুসেনায় কবে সংযোজন করা হয়েছে, তার সঠিক দিনক্ষণ জানা না গেলেও বায়ুসেনার দুই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, বিধ্বস্ত বিমানটি শুধুমাত্র প্রশিক্ষণরত পাইলটরাই ব্যবহার করতেন। এটি সম্ভবত ২০১৩ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার চীনের থেকে কিনে আনে।

স্বল্প খরচে নির্মিত, এক ইঞ্জিনচালিত এই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানটি সোভিয়েত ইউনিয়নের মিগ-২১ (MiG-21)-এর প্রযুক্তিতে তৈরি। ১৯৬৭ সালে চীন এই বিমান তৈরি করে। এরপর থেকেই এফ-৭-এর বিভিন্ন সংস্করণ, যার মধ্যে এফটি-৭ একটি, তারা একাধিক দেশকে বিক্রি করে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশের কাছে ২০১৩ সালে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া এফ-৭ সংস্করণের প্রায় ১২০টি যুদ্ধবিমান রয়েছে বলে জানা গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।