স্কুটি শিখতে এসে তুমুল ঝগড়া যুবক-যুবতীর, তারপরেই খালে কি একটা পড়ার আওয়াজ! অতঃপর….

কলকাতার আনন্দপুর এলাকার একটি খালপাড় থেকে এক তরুণী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় এক বন্ধুর সঙ্গে স্কুটি শিখতে এসে এই ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ তরুণীর সঙ্গে থাকা যুবকও বর্তমানে পলাতক। পুলিশ রাত থেকেই ওই খালে তল্লাশি চালাচ্ছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত তরুণীর কোনও খোঁজ মেলেনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত আনন্দপুরের চায়না মন্দির খালপাড় এলাকায়, যা বাইক বা স্কুটি শেখার জন্য বেশ জনপ্রিয়। স্থানীয়রা জানান, প্রায় প্রতিদিনই ওই তরুণী তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে সেখানে স্কুটি শিখতে আসতেন। সোমবার সন্ধ্যায়ও তাঁরা এসেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হঠাৎই তাঁদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। এলাকার বাসিন্দারা তাঁদের চিৎকার শুনতে পান। ঝগড়ার একপর্যায়ে কিছু একটা জলে ফেলে দেওয়ার শব্দও শোনা যায় বলে দাবি স্থানীয়দের।

রাত বাড়ার পর তরুণীর পরিবার তাঁর খোঁজ করতে আসে। কিন্তু খালপাড়ের রাস্তায় কেবল স্কুটিটিই পাওয়া যায়, তরুণীর কোনও হদিশ মেলেনি। পাশেই থাকা যুবকটিও সেই থেকে নিখোঁজ। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁরা।

স্থানীয়দের একাংশের সন্দেহ, ঝগড়ার সময় ওই যুবক হয়তো তরুণীকে ধাক্কা দিয়ে খালে ফেলে দিয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আনন্দপুর থানার পুলিশ। গত রাত থেকেই খালে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি শুরু হয়। তবে মঙ্গলবার বেলা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও তরুণীর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এই তল্লাশি অভিযানের সময় একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যা তদন্তে নতুন মোড় আনতে পারে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমি দেখলাম মেয়েটা ছেলেটাকে মারছে, কেউ থামাতে যায়নি। একটু পরে শুনলাম নাকি ওখানে লাশ পড়ে আছে। রাতে আবার বাড়ির লোক এসে খোঁজাখুঁজি করছিল। স্কুটিটা এখানেই পাওয়া গেছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, তারা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। নিখোঁজ তরুণী ও পলাতক যুবকের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালেও নতুন করে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এই ঘটনাটি খুন না নিছক দুর্ঘটনা, তা জানতে তদন্ত চলছে।