সোনা-রূপার চমক! ৭২% রিটার্নে স্টক মার্কেট ও ক্রিপ্টোকে ছাড়িয়ে গেল ‘সস্তা কাজিন’ রূপা; বিনিয়োগ কি অতিরঞ্জিত?

সোনা এবং তার ‘সস্তা কাজিন’ রূপা এই বছর সেরা পারফর্মিং অ্যাসেট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা স্টক এবং ক্রিপ্টো বাজারের রিটার্নকে বহুলাংশে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালে সোনার এই লাগামহীন উত্থান বিনিয়োগকারীদের চুম্বকের মতো টেনে এনেছে। এর প্রমাণস্বরূপ, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ETF)-এ টানা সপ্তম মাসের জন্য বিনিয়োগের জোয়ার দেখা গেছে।

অ্যাসোসিয়েশন অফ মিউচুয়াল ফান্ডস ইন ইন্ডিয়া (AMFI)-এর তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে গোল্ড ETF-গুলিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে, যেখানে ₹৩,৭৪১ কোটি টাকার নিট বিনিয়োগ রেকর্ড করা হয়েছে। এই বছর, সেরা পারফর্মিং গোল্ড ETFগুলি ৭২%-এরও বেশি রিটার্ন দিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এর আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই: সোনার ETF-এর এই উত্থান এবং দামের বৃদ্ধি কি কেবলই একটি বুদবুদ?

দাম বৃদ্ধির কারণ কী?
চয়েস ওয়েলথের গবেষণা ও পণ্য বিভাগের প্রধান অক্ষত গর্গ মিন্টকে জানান, বাজারের পরিবেশ নিঃসন্দেহে এই র‍্যালিকে শক্তি জুগিয়েছে। বিশ্বব্যাপী সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিনিয়োগকারীরা ETF-গুলিতে অর্থ ঢেলেছেন, যার ফলে সোনার দাম প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে।

তবে, গার্গ স্পষ্ট করেছেন যে চাহিদার পরিবেশ এবং শক্তিশালী সমর্থন এখনও বজায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি সোনা কেনা অব্যাহত রেখেছে এবং মার্কিন ডলারের দুর্বলতা অন্যান্য মুদ্রা ধারণকারীদের জন্য সোনাকে তুলনামূলকভাবে সস্তা করে তুলছে। উপরন্তু, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি সুদের হার কমানোর আশা করছে, যা সুদ-বহির্ভূত সোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। অতএব, এটি কোনও বুদবুদ নয়, তবে এই উত্থান একটি শক্তিশালী ভিত্তিকে অতিরিক্ত গতি যোগ করেছে।

গোল্ড ETF-এর উত্থান কি অব্যাহত থাকবে?
বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে মিন্ট জানাচ্ছে, আরও ঊর্ধ্বগতির সুযোগ থাকলেও, গতি কিছুটা মাঝারি হতে পারে। সোনা কেনা এবং সোনার ETF-তে বিনিয়োগকে সমর্থন করার মূল কারণগুলি হলো:

সুদের হার কমানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত: গত সপ্তাহে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ এই বছর তৃতীয়বারের মতো ২৫ বেসিস পয়েন্ট হার কমিয়েছে। গার্গ বলেন, সুদের হার কমানোর বা প্রকৃত রিটার্ন কমানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত সোনা ও রূপাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। বিনিয়োগকারীরা আগামী বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরও শিথিল মুদ্রানীতি আশা করছেন।

অব্যাহত ETF বিনিয়োগ: চয়েস ব্রোকিং-এর বিশ্লেষকরা বলছেন, সোনার ETF-এ এই ধারাবাহিক প্রবাহ দামকে উচ্চ রাখতে পারে। প্রতিটি নতুন ক্রয় সরবরাহ হ্রাস করে এবং দামকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের মতে, ২০২৫ সালে সোনার ETF-তে বিনিয়োগের পরিমাণ $৩৭৮.৭ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।

মার্কিন ডলারের দুর্বলতা: গত সপ্তাহে ডলার দুই মাসের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি ছিল, যা বিদেশী ক্রেতাদের জন্য সোনাকে সস্তা করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডলার দুর্বল থাকলে সোনার চাহিদা শক্তিশালী থাকবে।

সোনা-রূপা অনুপাত: সোনা-রূপা অনুপাত দীর্ঘমেয়াদী গড়ের কাছাকাছি থাকা আরও লাভের পক্ষে সহায়ক।