সোনা-রুপোর দামের বড় ধামাকা! কি এখন কেনার সঠিক সময়? জানুন আজকের আপডেট

গত কয়েক মাসে সোনা ও রুপোর দামের রেকর্ড গড়ার পর এখন ছবিটা সম্পূর্ণ বিপরীত। রেকর্ড উচ্চতা থেকে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই মূল্যপতন বিনিয়োগকারী, গয়নার ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এখন দোটানায় রয়েছেন—বাজার কি আরও নামবে, নাকি এটাই সোনা বা রুপো কেনার মোক্ষম সময়?
কেন দাম কমল?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধসের পিছনে বেশ কয়েকটি সক্রিয় কারণ রয়েছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলার ইনডেক্সের শক্তিশালী অবস্থান সোনা ও রুপোর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। ডলারের মান বাড়লে সাধারণত মূল্যবান ধাতুর আকর্ষণ কমে। দ্বিতীয়ত, বিশ্বজুড়ে আর্থিক অস্থিরতার জেরে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের অন্যান্য খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সোনা-রুপো বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন (Profit Booking)। এর ফলেও বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম নিম্নমুখী।
বাজারের ভবিষ্যৎ কী?
বিশেষজ্ঞদের দাবি, দামের বড় অংশের সংশোধন ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেল ভেঙে গেলেও এখন আর আগের মতো দ্রুত পতনের সম্ভাবনা কম। এর পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দামের সাম্প্রতিক পতন মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাকে কিছুটা প্রশমিত করেছে। ফলে বাজার এখন একটি ‘কনসলিডেশন ফেজ’ বা স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে। আগামী কয়েক দিন সোনা ও রুপোর দাম খুব বেশি ওঠানামা না করে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই ঘোরাফেরা করতে পারে।
রুপো নিয়ে বিশেষ বার্তা:
সোনা এবং রুপোর ব্যবহারের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। রুপো শুধু বিনিয়োগ বা গয়না হিসেবে নয়, বরং আধুনিক ইলেকট্রনিক্স, সোলার প্যানেল এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির শিল্পে অপরিহার্য। শিল্পক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান এই চাহিদার কারণে রুপোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এখনও যথেষ্ট ইতিবাচক। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য রুপো বর্তমানে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।
আজকের বাজারদর (২৫ জুন, ২০২৬):
বৃহস্পতিবারে কলকাতার বাজারে সোনার দাম কিছুটা নিম্নমুখী। বর্তমানে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১৩,২৭৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১০,৯০০ টাকা। অন্যদিকে, ১ কেজি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে ২,১৭,৭৬৩ টাকায়। মনে রাখবেন, গয়না বা বুলিয়ন কেনার সময় এই দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ জিএসটি (GST) যুক্ত হবে।