একটানা বসে কাজ করা মানেই কি মৃত্যুর ঝুঁকি? মাত্র ৫ মিনিটের এই অভ্যাসে ফিরবে জীবনীশক্তি!

আধুনিক কর্মসংস্কৃতিতে অফিসের নির্দিষ্ট ডেস্কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করা যেন এক অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাসের কুফল এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন কর্মজীবীরা। পিঠের অসহ্য যন্ত্রণা থেকে শুরু করে মেদবৃদ্ধি—এসব এখন নিত্যসঙ্গী। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য গবেষকদের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় বসে থাকার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে খুব জটিল কোনো শরীরচর্চার প্রয়োজন নেই; বরং প্রয়োজন প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ৫ মিনিটের একটি বিরতি।
সম্প্রতি ‘ব্রিটিশ জার্নাল অফ স্পোর্টস মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই সহজ সমাধানের কথা উঠে এসেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘক্ষণ একনাগাড়ে বসে থাকার ফলে শরীরে যে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়, তা এড়ানোর সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায় হলো প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ৫ মিনিট হাঁটা। এই সামান্য হাঁটাচলা শরীর ও মনের ওপর জাদুকরী প্রভাব ফেলে।
অনেকেই আশঙ্কা করেন, কাজের মাঝে বিরতি নিলে কাজের গতি কমে যাবে বা প্রোডাক্টিভিটি নষ্ট হবে। কিন্তু গবেষণার ফলাফল বলছে ঠিক উল্টো কথা। কাজের ফাঁকে এই সংক্ষিপ্ত বিরতি কর্মদক্ষতার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। বরং এটি মানুষের মেজাজ বা মানসিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটায়। একটানা কাজের চাপে যে ক্লান্তি বা মানসিক অবসাদ তৈরি হয়, এই পাঁচ মিনিটের হাঁটা তা নিমেষেই দূর করতে পারে। ফলে বিরতির পর কাজে ফেরার সময় আপনি আরও বেশি মনোযোগ ও প্রাণশক্তি নিয়ে কাজ করতে পারবেন।
দীর্ঘ সময় নড়াচড়া না করে বসে থাকা বর্তমানে একটি নীরব ঘাতক বা ‘সাইলেন্ট কিলার’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে শরীরে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি মারাত্মক হারে বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারের গবেষকরা জানাচ্ছেন, অফিসের এই দীর্ঘ সময়ের অলসতাকে মোকাবিলার জন্য জনস্বাস্থ্যের অংশ হিসেবেই এই বিরতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
গবেষকদের পরামর্শ, এই ৫ মিনিটের হাঁটার অভ্যাসকে আমাদের দৈনন্দিন কর্মজীবনের রুটিন বা শারীরিক কার্যকলাপ সংক্রান্ত নির্দেশিকার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। যদিও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হয়, তবুও বাস্তবে কর্মক্ষেত্রে মানুষকে খুব একটা মেনে চলতে দেখা যায় না। আমাদের মনে রাখতে হবে, সুস্থ থাকলে তবেই কর্মজীবনে সফল হওয়া সম্ভব। তাই আজ থেকেই কাজের ফাঁকে হোক ৫ মিনিটের পদচারণা। অফিসের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান, একটু হেঁটে নিন; আপনার শরীর ও মন আপনাকে ধন্যবাদ জানাবে। ছোট এই পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে বাঁচিয়ে তুলবে বড় বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে।