সোনা না তেলের বিনিয়োগে লাভ? বাজারে বড় ধস, ১ লক্ষ ৫০ হাজারে নামল ১০ গ্রাম সোনার দাম!

সপ্তাহের শেষে বিশ্ববাজারে বড়সড় ওলটপালট। একদিকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম আকাশছোঁয়া, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় এক ধাক্কায় অনেকটা কমে গেল সোনা ও রুপোর দাম। শুক্রবার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) দিনের শুরুতেই দুই মূল্যবান ধাতুর দামে বড় ধস লক্ষ্য করা গেছে।

সোনা ও রুপোর দামে বড় পতন বাজার বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে শুক্রবার সোনার দাম বেশ খানিকটা কমেছে।

  • ১০ গ্রাম সোনা: ৫ জুনের গোল্ড ফিউচার ১,৫১,৭৬১ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৫০,৭৫০ টাকায়। অর্থাৎ একদিনেই প্রায় ১ হাজার টাকার বেশি পতন!

  • রুপোর দরে ধস: ৫ মে-র সিলভার ফিউচারের দাম কেজিতে প্রায় ২,৩১৩ টাকা কমেছে। ১ শতাংশ পতনের ফলে প্রতি কেজি রুপোর দাম এখন ২,৩৯,২০০ টাকা

কেন এই পতন? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার বিক্রির চাপ প্রবল। COMEX-এ সোনার দাম প্রতি আউন্সে কমে হয়েছে ৪,৬৮৪ ডলার। বিশেষজ্ঞরা এই পতনের পেছনে ৩টি প্রধান কারণ দেখছেন: ১. শক্তিশালী ডলার: আমেরিকান ডলারের ক্ষমতা বাড়ায় বন্ড ইল্ড বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনা ও রুপোর ওপর। ২. ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা: পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীরা সোনা-রুপো নিয়ে দোটানায় রয়েছেন। ৩. তেলের দামের প্রভাব: অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাজারে মুদ্রাস্ফীতির আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

তেল ও শেয়ার বাজারের হাল এদিন ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ১০০ ডলারের উপরে লেনদেন হচ্ছে। তেলের দাম বাড়লে সাধারণত পরিবহন খরচ বাড়ে, যা মধ্যবিত্তের পকেটে টান ফেলে। অন্যদিকে, তেলের দামের এই উল্লম্ফন এবং ডলারের দাপটে ভারতীয় শেয়ার বাজারও ধরাশায়ী। এদিন সেনসেক্স ও নিফটি দুই সূচকই প্রায় ১ শতাংশের কাছাকাছি পড়ে গিয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা এখনই কাটার লক্ষণ নেই। তাই সোনা বা শেয়ার বাজারে বড় বিনিয়োগের আগে বাজারের গতিপ্রকৃতি বুঝে নেওয়া জরুরি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy