‘সোনা কিনবেন না, বিদেশ যাবেন না!’ মোদীর বার্তায় তোলপাড় দেশ, পাল্টা ‘ব্যর্থতার প্রমাণ’ তোপ রাহুলের!

দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে এবার দেশবাসীকে বড়সড় ‘ত্যাগের’ আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার হায়দরাবাদের এক জনসভা থেকে তিনি নাগরিকদের সোনা কেনা কমানো, বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রাখা এবং জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদন ঘিরেই সোমবার দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে সরকারের চূড়ান্ত ‘ব্যর্থতার প্রমাণ’ হিসেবে উল্লেখ করে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন।

রবিবার হায়দরাবাদে বিজেপির এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, চলমান এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে পেট্রোল, ডিজেল এবং সারের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমাতে বলেন এবং বিকল্প হিসেবে মেট্রো পরিষেবা, কারপুলিং বা ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এমনকি সম্ভব হলে কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মোদী বলেন, “যেকোনো মূল্যে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে হবে। এটি বর্তমান সময়ে একটি জাতীয় কর্তব্য।”

এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আমদানিকৃত পণ্যের ওপর চাপ কমাতে সাধারণ মানুষকে এক বছরের জন্য সোনা কেনা এবং বিদেশ যাত্রা স্থগিত রাখার আর্জি জানান। রান্নার তেল ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোর ওপরও জোর দেন তিনি। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় দেশবাসী যেভাবে আচরণগত পরিবর্তন এনেছিল, বর্তমান বিশ্ব সংকটেও সেই একই মনোভাব বজায় রাখার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘উপদেশ’ মানতে নারাজ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে একহাত নেন। রাহুল লেখেন, “গতকাল মোদীজি সাধারণ মানুষকে ত্যাগ স্বীকার করতে বলেছেন—সোনা কিনবেন না, বিদেশে যাবেন না, কম পেট্রোল ব্যবহার করুন। এগুলো উপদেশ নয়—এগুলো ব্যর্থতার প্রমাণ।” বিরোধী দলনেতার মতে, গত ১২ বছরে দেশ এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়েছে যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে বলে দিতে হচ্ছে মানুষ কী কিনবে আর কোথায় ঘুরতে যাবে। তিনি আরও যোগ করেন, “সরকার নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে প্রতিবার সাধারণ মানুষের ওপর দায় চাপিয়ে দেয়। দেশ চালানো এখন আর আপোসকারী প্রধানমন্ত্রীর পরিধির মধ্যে নেই।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy