২০২৫ সাল বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা এক অসাধারণ মুনাফার বছর হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। বছরের প্রথমার্ধে এই মূল্যবান ধাতু বিনিয়োগকারীদের প্রায় ২৭ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে চোখে পড়ার মতো। এপ্রিল মাস থেকে হিসাব করলে, এই রিটার্নের পরিমাণ ৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সোনাকে অন্যতম সেরা পারফর্মিং অ্যাসেট ক্লাস বা সম্পদ শ্রেণিতে পরিণত করেছে। তবে, এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পরেও বিশেষজ্ঞরা এখন আগামী পাঁচ মাস সোনাতে নতুন বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রশ্ন উঠেছে, কেন এই বিপরীতমুখী পরামর্শ?
নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে সোনার অবস্থান ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা:
মেহতা ইক্যুইটিজ লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান (কমোডিটিজ) রাহুল কালান্ত্রির মতে, নিরাপদ বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে সোনা এখনও তার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এমসিএক্স-এ সোনার দামের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি সত্ত্বেও, তিনি এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা বর্তমান স্তরে নতুন বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের যুক্তি, সোনার বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। বরং, নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির আগে কিছু সময়ের জন্য দাম স্থির হতে পারে বা এমনকি সামান্য পতনও দেখা যেতে পারে। এই সময়টিকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য কাজে লাগানো যেতে পারে, কিন্তু স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য এটি উপযুক্ত নয়। বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতির উন্নতি হলে সোনার দাম কমতে পারে, তাই এখনই নতুন বিনিয়োগ এড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সোনার মূল্যবৃদ্ধির কারণগুলি:
রাহুল কালান্ত্রি সম্প্রতি সোনার মূল্যবৃদ্ধির বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন:
বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলিতে, সোনার ক্রয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিভিন্ন কারণে বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে।
মার্কিন ডলার সূচকে দুর্বল প্রবণতা এবং ইউএস ফেড কর্তৃক সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা।
ভারত ও চিনে সোনার এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETF)-এ শক্তিশালী বিনিয়োগ এবং খুচরা চাহিদা বৃদ্ধি।
সোনার দামের সম্ভাব্য স্থিরতা বা পতন:
মতিলাল ওসওয়াল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের সিনিয়র বিশ্লেষক মানব মোদীও একই মতামত পোষণ করেন। তার মতে, সোনার দামের বর্তমান বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদী হবে বলে মনে হচ্ছে না। দাম আবার বাড়ার আগে কিছু সময়ের জন্য থেমে যেতে পারে এবং এমনকি পতনও ঘটতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য এই সম্ভাব্য পতনকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
রুপোতে বিনিয়োগের পরামর্শ:
রাহুল কালান্ত্রি স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিয়েছেন যে, পোর্টফোলিওর কিছু অংশ সোনার পরিবর্তে রুপোতে বিনিয়োগের কথা বিবেচনা করতে পারেন। তার মতে, শিল্প বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের কারণে রুপোতে আরও বেশি লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। কালান্ত্রি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আগামী ছয় মাসের জন্য সোনার সামগ্রিক চিত্র নেতিবাচক থাকতে পারে, যদি না মার্কিন ফেডের সুদের হারে বা বিশ্বব্যাপী ঝুঁকির মাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে।
সুতরাং, যদিও সোনা সাম্প্রতিককালে চমৎকার রিটার্ন দিয়েছে, বিশেষজ্ঞরা এখন নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং সম্ভাব্য পতনের জন্য অপেক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের সুযোগের সদ্ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।