শান্ত সোনাপুর আজ অগ্নিগর্ভ। ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ঘরে ঢুকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল আলিপুরদুয়ার জেলার সোনাপুর এলাকা। অভিযুক্ত ৫০ বছর বয়সী তোফিজার মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও এলাকায় উত্তেজনা কমছে না। নির্যাতিতার পরিবারের বিস্ফোরক দাবি— অভিযুক্ত ব্যক্তি কেবল ছোট বোন নয়, কয়েকদিন আগে বড় বোনকেও লালসার শিকার বানিয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সোনাপুর এলাকায় ওই নাবালিকা বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে ঘরে ঢোকে তোফিজার। তাকে নিগ্রহের চেষ্টা করলে মেয়েটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও পরিবারের বড় মেয়ে (১৫) কান্নায় ভেঙে পড়ে জানায়, কয়েকদিন আগে তাকেও একইভাবে ধর্ষণ করেছিল তোফিজার। ভয়ে সে এতদিন মুখ খোলেনি। দুই বোনের ওপর এমন পৈশাচিক হামলার খবর ছড়াতেই এলাকায় দাবানল জ্বলে ওঠে।
গণবিক্ষোভ ও রণক্ষেত্র সোনাপুর
ঘটনার জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযুক্তের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান উত্তেজিত জনতা। বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, “এলাকায় নাবালিকাদের নিরাপত্তা কোথায়? কেন বারবার এমন অপরাধীরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে?” পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশি পদক্ষেপ ও আইনি লড়াই
সোনাপুর পুলিশ আউটপোস্টে পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তোফিজার মিয়ার বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনসহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে:
অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করে আলিপুরদুয়ার আদালতে তোলা হয়েছে।
নির্যাতিতা নাবালিকাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরালো করা হবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
ভোটের মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জা। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যে নারী সুরক্ষা তলানিতে ঠেকেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না; আইন তার নিজের পথেই চলবে।
এডিটরস নোট: শিশুদের ওপর এই ধরণের পাশবিক হামলা সমাজের জন্য এক বড় কলঙ্ক। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলেও সাধারণ মানুষের মনে জমা হওয়া ক্ষোভ বলছে— দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সোনাপুর শান্ত হওয়া কঠিন।





