মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় এসে স্বামী রাজা রঘুবংশীকে হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার স্ত্রী সোনম রঘুবংশীকে। বুধবার শিলং জেলা আদালত সোনম রঘুবংশী এবং এই খুনের ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সোনম স্বামীকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার জড়িত থাকার জোরালো প্রমাণও মিলেছে।
কিন্তু কী এমন সূত্র ছিল যা পুলিশকে এই খুনের রহস্য উন্মোচনে সাহায্য করল? মেঘালয় রাজ্যের পুলিশের দাবি, সোনমের একটি ছোট ভুলই তদন্তে বড় সূত্র হিসেবে কাজ করেছে এবং সেই সূত্র ধরেই খুনের কিনারা করা সম্ভব হয়েছে।
মধুচন্দ্রিমায় এসে নিখোঁজ, তারপর মৃতদেহ উদ্ধার
বিয়ের পর গত ২১ মে রাজা এবং সোনম মধুচন্দ্রিমার জন্য মেঘালয়ে এসেছিলেন। তারা চেরাপুঞ্জি এলাকাতেও যান এবং সেখানে একটি হোমস্টেতে উঠেছিলেন। গত ২৩ মে তাদের শেষবার একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীতে, ২ জুন চেরাপুঞ্জির সোহরার কাছে একটি খাদ থেকে রাজার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। রাজার দেহ পাওয়া গেলেও, তখন সোনমের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না, যা রহস্য আরও ঘনীভূত করে তুলেছিল।
ফেলে যাওয়া মঙ্গলসূত্র ও বিয়ের আংটিই ‘ক্লু’
মেঘালয় পুলিশের ডিআইজি ডিএনআর মারাক জানান, এই ঘটনার তদন্তের জন্য যখন হোমস্টেতে যাওয়া হয়, তখনই সেই ঘরে পাওয়া যায় ‘ক্লু’ যা রহস্য সমাধানের চাবিকাঠি হয়ে ওঠে।
ডিএনআর মারাক একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, “ওই ঘরে গিয়েই পাওয়া যায় সোনমের মঙ্গলসূত্র। পাওয়া যায় তার বিয়ের আংটিও।” তিনি আরও বলেন, “ওই ঘরে থাকা সুটকেসের মধ্যে মঙ্গলসূত্র এবং বিয়ের আংটি পাওয়ার পরেই আমরা অবাক হই। একজন সদ্য বিবাহিতা মহিলা কীভাবে হানিমুনে এসেও মঙ্গলসূত্র এবং বিয়ের আংটি ফেলে যেতে পারে, তা নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে প্রশ্ন করি।”
মারাক বলেন, এই প্রশ্নই তাদের মধ্যে সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। তার কথায়, “স্বামীকে যে সেদিনই খুন করা হবে তা আগেই ঠিক করে নিয়েছিলেন সোনম। তাই পরিকল্পনা মাফিক দ্রুত ঘর থেকে বেরোতে গিয়ে তিনি ফেলে আসেন মঙ্গলসূত্র। এটাই ছিল তার সামান্য ভুল। কিন্তু এই সামান্য ভুলটাই আমাদের এই খুনের রহস্যের কিনারা করতে সাহায্য করেছে।”
পুলিশ ইতিমধ্যেই কীভাবে রাজাকে খুন করা হয়েছে, সে বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। এখন সোনম এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের জেরা করে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আরও কারা জড়িত আছে এবং খুনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ‘হানিমুন মার্ডার’ মামলায় প্রতিটি নতুন তথ্য এক নতুন বিস্ময়ের জন্ম দিচ্ছে।