সেন্সর বোর্ডের কাঁচি থেকে ‘শোলে ২’ পর্যন্ত! কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে এসে সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে কী বললেন রমেশ সিপ্পি?

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (KIFF) সত্যজিৎ রায় মেমোরিয়াল বক্তব্য দিতে এসে বিতর্কের মুখে পড়লেন কিংবদন্তি ‘শোলে’ (Sholay) সিনেমার পরিচালক রমেশ সিপ্পি। যে মঞ্চে কাল্ট সিনেমার পরিচালক সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে আলোচনা করার কথা ছিল, সেখানে তাঁর প্রায় ২৭ মিনিটের বক্তব্যে সিংহভাগ স্থান পেল ‘শোলে’ নির্মাণের নানা কাহিনি।

শুক্রবার শিশির মঞ্চে সস্ত্রীক মঞ্চে আসেন রমেশ সিপ্পি। মডারেটর ছিলেন পরিচালক গৌতম ঘোষ।

আলোচনায় প্রাধান্য পেল ‘শোলে’
অনুষ্ঠানে সত্যজিৎ রায়ের কাজ নিয়ে পাঁচ মিনিটও আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন অনেকে। উল্টে রমেশ সিপ্পির বক্তব্যে উঠে আসে ‘শোলে’ তৈরির নানা দিক। যদিও মডারেটর গৌতম ঘোষ জানান যে, ‘শোলে’ সত্যজিৎ রায়ের বিশেষ পছন্দের একটি ছবি ছিল, তাতে সম্মতি জানান রমেশ সিপ্পি।

বিশ্ব সেরা পরিচালক: ইটিভি ভারত প্রশ্ন করলে রমেশ সিপ্পি সত্যজিৎ রায় প্রসঙ্গে সংক্ষেপে বলেন, “উনি আলোর রশ্মি, উনি আশার রশ্মি। পরিচালক হিসেবে উনি বিশ্ব সেরা। ভারতীয় সিনেমায় ওঁর অবদান নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আমি ওঁর কাজের দ্বারা অনুপ্রাণিত।”

‘শোলে’র ৫০ বছর: উল্লেখ্য, এই বছর ‘শোলে’ ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। তাই এই বছরটি রমেশ সিপ্পির কাছে স্পেশাল। তিনি জানান, অনেকেই তাঁকে ‘শোলে ২’ কবে বানাবেন জিজ্ঞেস করেন। উত্তরে তিনি বলেন, “শোলেই এখনও মানুষ ভুলতে পারেনি আমি শোলে ২ বানাব কী করে?”

সেন্সর বোর্ড ও দর্শকদের প্রত্যাশা
এই অনুষ্ঠানে ‘শোলে’ সিনেমার সেন্সর বোর্ডের কাঁচি প্রসঙ্গও উঠে আসে। পরিচালক বলেন, “আমি সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে লড়াই করেছিলাম যাতে কোনো দৃশ্য বাদ না যায়। কিন্তু তখন গিয়েছিল, এখন যখন আনকাট দৃশ্য নিয়ে সিনেমা পুনরায় মুক্তি পেয়েছে, তখন এমন কিছু পার্থক্য নজরে আসবে না।”

দর্শককে আশ্বস্ত করে পরিচালক জানান, ভালো সিনেমা বানানো বন্ধ করা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “ভাববেন না সিনেমা মরে গিয়েছে। দর্শক সবসময় ফিরে আসে ভালো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে আসলে।”

তবে সত্যজিৎ রায় মেমোরিয়াল বক্তব্যে সত্যজিৎ রায়ের কাজের চেয়ে নিজের সিনেমার আলোচনা বেশি হওয়ায়, সাংস্কৃতিক মহলে কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।